সিলেট জেলা-মহানগর যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক কিছু সংখ্যক নেতা সন্ত্রাসী পীযুষ কান্তি দে ও কালা ফারুক এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবী করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খাদিমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। এক বিবৃতিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা মনেকরি এ সকল চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নিজেদের গাঁ বাঁচাতে কৌশলে আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনের নাম ব্যবহার করছে। যাদের আওয়ামী লীগে কোন স্থান নেই। ইতোমধ্যে ছালিয়ায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ, খাদিমন নগর ইউনিয়ন পরিষদ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ পিপি, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমদ গুলিবিদ্ধ ছালিয়া গ্রামবাসীকে দেখতে এসেছেন এবং সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে গুরুতর গুলিবিদ্ধ আরিফ আহমদ সুমনের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তারা। খাদিমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সহ-সভাপতি ছৈদুল হক, তেরা মিয়া মেম্বার, বশির মিয়া, সিদ্দেকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, আওয়ামীলীগ নেতা আজমল আলী, রমিজ উদ্দিন, ইদ্রিস আলী, ইসকন্দর আলী যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে- গত ১৪ মে সোমবার ঘটনার মূল হোতা আব্দুল মুহিত মুকুলের নেতৃত্বে পীযুষ, কালা ফারুক, জগৎ জোতি তালুকদার, কুমকুম, বুলবুল-এর নেতৃত্বে এই ইউনিয়নের ছালিয়া গ্রামে জোহরের নামাজ চলাকালীন সময়ে প্রথমে ককটেল চার্জ ও ফাঁকাগুলি বর্ষণ করে ত্রাসের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে দোকানে লুটপাট চালায়। যা গ্রামবাসী, ভিকটিমগণ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এসেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে সন্ত্রাসীরা গ্রামবাসীর উপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এ সময় ছালিয়া গ্রামবাসী ও আশপাশ গ্রামের লোকজন শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলায় পিযুস-কালা ফারুক গংরা গুলি করতে করতে পালিয়ে যায়। এ সময় ২২ জন সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ গ্রামবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী। আমরা আশাকরি দলের বৃহৎ স্বার্থে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিবৃতি দানকারী আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তা প্রত্যাহার করে নিবেন। সেই সাথে জীবন বাজি রেখে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা ও প্রতিরোধ করায় আমরা ছালিয়া গ্রামবাসী ও ইউনিয়নবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। -বিজ্ঞপ্তি
সংবাদদাতা, ওসমানীনগর : ওসমানীনগরে র্যাব-৯ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে বাংলা ছায়াছবির ১৫’শ পিছ কপিরাইট সিডি উদ্ধার করেছে। এসময় ২ ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের সোপর্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এফডিসির অপারেশন অফিসার রফিকুল আলম চৌধুরী বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত ৯টার দিকে র্যাব-৯ এর একটি দল ওসমানীনগরের ব্যবসায়িক প্রাণ কেন্দ্র গোয়ালাবাজারে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় তাদের সাথে ছিলেন এফডিসির অপারেশন অফিসার রফিকুল আলম চৌধুরী। অভিযানকালে রাজন ইলেক্ট্রনিক্স ও বন্ধন সিডি কর্ণার থেকে বাংলা ছায়া ছবির ১৫’শ পিছ কপি রাইট সিডি উদ্ধার করে। এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকে কৃষ্ণ চন্দ্র ও জয়ন্ত নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করে ওসমানীনগর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
ওসমানীনগর থানার ওসি আল আমিন অভিযানে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃত ২জনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিয়ানীবাজার (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বিয়ানীবাজারে দু’পক্ষের সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহতের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত নুরুল ইসলাম তপুর পিতা আব্দুল মতিন বাদী হয়ে গতকাল বিয়ানীবাজার থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এতে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার থাকায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। এদিকে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ছাত্র নুরুল ইসলাম তপুর জানাজার নামাজ গতকাল মঙ্গলবার বাদ আছর দেউলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য তপুর জানাজার নামাজে দলমত নির্বিশেষে বিপুল সংখ্যক লোক শরিক হন। পরে তার লাশ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। অপরদিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত ৩ জনের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। বিয়ানীবাজার থানায় নিহতের পিতা আব্দুল মতিনের দায়েরকৃত মামলা নং ১১, তারিখ ১৫/০৫/২০১২ ইং। মামলায় উল্লেখিত আসামীদের মধ্যে মমতাজ আলী, লুৎফুর রহমান, আজমল আলী, সোহেল আহমদ, পাবেল আহমদ. আবুল কালাম, মইন উদ্দিন, রেহান আহমদ, এহিয়া, মাসুদ, মতলিব জেল হাজতে রয়েছেন। উল্লেখ্য, উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের দেউলগ্রামে গত রোববার রাতে গরুর লড়াইকে কেন্দ্র করে গ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম মহল্লার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নুরুল নিহত হয়। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন। বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক শিবলী বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নিহত নুরুলের লাশের দাফন কার্য সম্পাদন হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউইয়র্ক থেকে সংবাদদাতাঃ যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ারম্যান জোশেফ ক্রাউলী বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় আবারো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন মিডিয়ায় তারেক রহমানকে নিয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তাতে উষ্মা প্রকাশ করে এনিয়ে কোন মন্তব্য করেননি বলে জানান তিনি। গতকাল সোমবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ-আমেরিকান ডেমোক্রেটিক ককাসের সদস্যদের সাথে নির্বাচন সংক্রান্ত এক সভায় জোশেফ ক্রাউলী উপস্থিত বাংলাদেশী কর্মকর্তাদের প্রশ্নের জবাবে এই উদ্বেগের কথা জানান। সভায় উপস্থিত বাংলাদেশীদের বরাত দিয়ে নিউজ ওয়ার্ল্ডকে এই তথ্য জানান যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু। জোসেফ ক্রাউলী বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রধান শর্ত হচ্ছে সহিষ্ণুতা। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে এই পরিবেশের অভাব রয়েছে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেখতে চান না -এমন মন্তব্য তিনি করেছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে, জোশেফ ক্রাউলী তাতে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের কোন মন্তব্য আমার করার প্রশ্নই উঠে না। তারেক রহমান রাজনীতি করবেন কিনা সেটা তার ও বাংলাদেশের বিষয়। সেখানে আমার মন্তব্য একান্তই অবান্তর।
সিলেটনিউজসাইট : তত্ত্বাবোধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল, ইলিয়াস আলীর সন্ধান, সাগর-রুনির ঘাতক গ্রেফতারসহ খালেদা জিয়া ঘোষিত দাবি আগামী ১০ জুনের মধ্যে মেনে না নিলে গণঅভ্যুত্থান ঘটানো হবে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে দেওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ইলিয়াস আলীকে সরকার তার বাহিনী দিয়ে গুম করিয়েছে। ওই ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শিরাও সে কথাই বলেছেন। সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনও উপস্থিত ছিল। এ তথ্য বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এসেছে। তাই অবিলম্বে ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া সবার সন্ধান দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি। ‘গুম-হত্যার বিরুদ্ধে’ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে ফখরুল বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্টতায় রাজনৈতিক নেতাদের জরবদস্তি গুম কিংবা নিখোঁজ করে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে গত সাড়ে তিন বছরে ১২৭ জনকে গুম করা হয়েছে, যা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের চেয়ে কম নয়।তিনি আরও বলেন, সরকারের দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতুর বিনিয়োগ ফিরিয়ে নিয়েছে বিশ্ব ব্যংক। আরও বেশি দুর্নীতি করার জন্য আরও কঠিন শর্তে অন্য দেশ থেকে টাকা আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। জণগণ এ লুটপাট ও কঠিন শর্তে ঋণ মেনে নেবে না। সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে নিতে ও আন্দোলন দমনের জন্য ‘জবরদস্তি অপহরণের’ পথ বেছে নিয়েছে তারা। তাদের এ পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধের চেয়েও কম নয়। ইলিয়াস আলী রাজনীতি করতেন কিন্তু তার ড্রাইভারকে কি কারণে গুম করা হলো? আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আমরা কি এই দেশ এই সমাজের জন্য ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম। সুশীল সমাজের উদ্দেশ্যে ফখরুল বলেন, আপনারা এ সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করছেন না কেন? আপনারা কি নিজেদের নিরাপদ ভাবছেন? কিন্তু আপনারা নিরাপদ নন। জার্মানিতে বুদ্ধিজীবীরাও ভেবেছিলেন তারা নিরাপদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতিও আঘাত এসে ছিল। ফখরুল আরও বলেন, দেশ থেকে ১০০ জন ব্যবসায়ী তাদের পুঁজি তুলে নিয়েছে। কারণ বর্তমান সরকার লুটপাটের সরকার। তারা পুঁজিবাজার, ব্যাংকসহ সব সেক্টর থেকে লুটপাট করেছে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আমান উল্লাহ আমান বলেন, ২৭ দিনেও ইলিয়াস আলীর সন্ধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। তার সন্ধান চেয়ে আন্দোলনকারীদের জেল ও ৭০ জনের নামে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে সরকার। কারণ তারা মানুষের গ্যাস, বিদ্যুত, পানি, দ্রব্যমূল্যসহ কোনো চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। তাই দৃষ্টি অন্যদিকে নেওয়ার জন্য এ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে তারা। আমান আরও বলেন, সাগর-রুনির হত্যকারীরা এ সরকারেরই লোক। তাদের বিরুদ্ধে প্রচারের জন্য প্রতিবেদন তৈরি করায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। না হলে এতদিনে ঘাতকদের গ্রেফতার করা সম্ভব হত। এ ব্যাপারে আন্দোলনরত সাংবাদিকদর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন তিনি। ৯০ এর ছাত্র নেতাদের ব্যানারে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খায়রুল কবীর খোকন। বিএনপির বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে সাবেক ছাত্র নেতা আসাদুজ্জামান রিপন, ফজলুল হক মিলন, হাবিবুর রহমান হাবিব, মুস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, নাজিম উদ্দিন আলম, খোন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুজ্জামান আসাদ, সাইফুদ্দিন মনি, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, শাম্মী আখতার বক্তব্য রাখেন।
সিলেটনিউজসাইট : রাতভর শহীদ মিনারে অবস্থানের পর গতকাল দুপুরে মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাওয়ার সময় শাহবাগে পুলিশ আটকে দিয়েছে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের। কয়েক হাজার শিক্ষক সেখানে অবস্থান নেয়ায় কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে ওই এলাকা। পুলিশের বাধা ডিঙ্গিয়ে কিছু শিক্ষক শাহবাগের প্রধান সড়ক অবরোধ করতে চাইলে পুলিশ লাঠিপেটা ও জলকামান ছোঁড়ে তাদের দমাতে সমর্থ হয়। তবে শিক্ষকরা পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে অবস্থান নিয়েছেন। তারা সেখানে শুয়ে বসে প্রদিবাদ জানাচ্ছেন।গতকাল দুপুর ২টা নাগাদ ব্যারিকেড ডিঙিয়ে শিক্ষকদের একাংশ শাহবাগ মোড়ে চলে এসে মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালালে মারমুখি হয়ে উঠে পুলিশ। তারা বেদড়ক লাঠিচার্জ ও জল কামান ছোঁড়ে। এসময় জল কামানের পানি নাকে ঢুকে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে বলে শিক্ষকরা দাবি করেছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। ওই শিক্ষকের নাম ইদ্রিস আলী। তিনি নেত্রকোন জেলা থেকে এসেছিলেন। লাটিপেটায় আর ৫/৬ জন শিক্ষক আহত হন। দুপুর দু’টার পরপর বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের মহাসচিব আব্দুর রহমান বাচ্চু জানান, স্মারকলিপি জমা দিতে হাতে গোনা ক’জন প্রতিনিধিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর প্রস্তাবে রাজি নন তারা। হয় সবাইকে একযোগে স্মারকলিপি জমা দিতে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের পৃথক চারটি সংগঠন সোমবার দুপুর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় রাতে শহীদ মিনারে অবস্থান করেন তারা।
মনোয়ার হোসেন : বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক,বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ- ওসমানী নগর এলাকার সাবেক এম.পি এম ইলিয়াস আলীর সন্ধ্যান ও অবিলম্বে মুক্তির দাবীতে এবং বিশ্বনাথে ৩ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে গতকাল সর্বদলীয় ইলিয়াস মুক্তি পরিষদ ফ্রান্স এর উদ্যোগে বাংলাদেশ দুতাবাস ঘেরাও ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সর্বদলীয় ইলিয়াস মুক্তি পরিষদ ফ্রান্স এর আহবায়ক মোঃ মফিজ আলীর সভাপতিত্বে তারেক আহমদ ও ইকবাল হোসেন জগলুর যৌথ পরিচালনায় এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ফ্রান্স বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ সাইফুর রহমান। সর্বদলীয় ইলিয়াস মুক্তি পরিষদ ফ্রান্স এর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, ফ্রান্স প্রবাসী কমিউনিটি নেতা সিরাজ মিয়া, হাজী হাবিব হোসেন, শাহ জামাল আহমদ, মনোয়ার হোসেন, আসাদুল আলম ব্যাপারী, শাহ জালাল, মিজানুর রহমান, মোঃ শাহ জাহান, কুনু মিয়া, আফসার কোরায়শী, ইকবাল হোসেন আলী, আকদ্দছ আলী, আলতাব আলী, শায়েক আহমেদ, ছালিক আহমদ, আফজাল হোসেন, মহসিন আলী, সেবুল হক, আমির আলী, ফয়েজ আহমদ, জাহেদ আহমদ, আব্দুল মুহিত, কালা মিয়া, রুহুল আমীন, এমরান হোসেন, শামছুল ইসলাম প্রমূখ। এক ঘন্টা ঘেরাও কর্মসূচী শেষে নেতৃবৃন্দ মিছিল সহকারে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, গত ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীকে অপহরন ও গুমের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা চরম অবনতির প্রমাণ বহন করে। দেশে একের পর এক গুম ও আইন বর্হিভূত হত্যার মাধ্যমে দেশে এক ভয়াবহ ভীতিকর ও নাজুক পরিবেশ সৃষ্টি করে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ঢেলে দেয়াসহ সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করার এক হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে সরকার। ২৭ দিন পার হয়ে গেলেও সাবেক সাংসদ ইলিয়াস আলী ও তার ড্রাইভার আনছার আলীর কোনো খোঁজ দিতে পারেনি সরকার তথা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে বিএনপির আরেক নেতা চৌধুরী আলম, সিলেট ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার ও জুনেদ আহমদ নিখোঁজ হয়েছেন। কিন্তু এসব নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিরা আদৌ বেঁচে আছেন কি না সে তথ্যও কারো কাছে নেই। এসব গুমের ঘটনায় কারা জড়িত এর জবাব সরকারকেই দিতে হবে। জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র তথা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
আমাদের সরকার সে দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। ‘ঘরে থাকলে খুন, আর রাস্তায় বের হলে গুম’ এ অবস্থা চলছে দেশে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ইলিয়াস আলীর মত একজন জনপ্রিয় নেতা নিখোঁজের ঘটনা দেশের মত সারা বিশ্বের প্রবাসীদের মনেও চরম হতাশা ও ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। জনপ্রিয় নেতার জন্মস্থান শৈশব ও কৈশরের স্মৃতি বিজড়িত বিশ্বনাথে তার স্বজনদের আন্দোলিত করবে এটাই স্বাভাবিক। এরই অংশ হিসেবে গত ২৩ এপ্রিল সোমবার দুপুরে বিশ্বনাথবাসীর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ বাঁধা দিলে জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।
পুলিশ বিনা উসকানিতে সেখানে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করলে উত্তেজনা চরম আকার ধারন করে। সেদিনের গনমাধ্যমকর্মীদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বুঝা যায় পুলিশের সাথে স্থানীয় সরকার দলীয় কতিপয় সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে নিরীহ ৩জন গ্রামবাসী মনোয়ার, সেলিম ও জাকেরকে হত্যা করে।
সিলেটনিউজসাইট : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এক বাণীতে দিবসের সাফল্য কামনা করেছেন। বাণীতে তার সরকারের আমলে বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মায়ের মর্যাদাকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য পাসপোর্ট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি ফরমে মায়ের নাম বাধ্যতামূলক করা হয়। বয়স্ক মায়েদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। চাকরিজীবী মায়েদের কষ্ট লাঘবের কথা বিবেচনায় রেখে সচিবালয়সহ বিভিন্ন ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এছাড়াও তাদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়। আজ সমাজে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে।
মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক মা দিবসের প্রাক্কালে এক বাণীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি দুনিয়ার সকল মায়ের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং সুখী জীবন কামনা করেন। ‘পরিবারে মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া তাঁর বাণীতে বলেন, সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মায়েরা অসামান্য অবদান রাখেন। বেগম জিয়া বলেন, একটি জাতির শিক্ষিত হয়ে ওঠার পেছনে মায়েদের অবদান সবচেয়ে বেশি। যে পরিবারে মা শিক্ষিত সেই পরিবারের সন্তানেরা সহজেই সুশিক্ষিত হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, এসব বিবেচনা করেই আমরা সরকারে থাকতে মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম। তিনি আন্তর্জাতিক মা দিবসের সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
সিলেটনিউজসাইট : মা! যে শব্দ এক স্বর্গীয় পুণ্যতায় হৃদয়-মনকে অমিয় সুধায় প্লাবিত করে । ত্রিভুবনের সবচেয়ে মধুরতম অপার্থিব শব্দ। মা কথাটি ছোট্ট অতিঃ। কিন্তু মাণ্ডই বসুন্ধরা, মাণ্ডই কায়া-মায়া। মমতার আধার তার সহজাত মমত্ব, সর্বংসহা হৃদয় সন্তানকে আগলে রাখে অসামান্য দরদে। সন্তানের রোগে-শোকে মা-ও আক্রান্ত থাকেন একই তন্ত্রীতে। আল্লাহপাকের সেরা সৃষ্টি মায়ের মত আপন কেউ নাই। কেউ হতেও পারে না। ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিং বলেছেন, ‘মাতৃত্বেই সকল মায়া-মমতা ও ভালবাসার শুরু এবং শেষ।’ ইসলাম মাকেই দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান, মহামর্যাদা। ইসলামের শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।’ মহান আল্লাহ পাক মাদের অন্তরে সন্তানের প্রতি সৃষ্টি করেছেন এক পরম মমত্ববোধ। সন্তান গর্ভে ধারণ করা হতে অপরিসীম কষ্ট-যন্ত্রণা ভোগের পর প্রসব। অতঃপর সন্তানের মুখে মা ডাক তাকে ভুলিয়ে দেয় দীর্ঘ দিবস-রজনীর যাতনা। আজ মা দিবস। বিশ্বের কৃতজ্ঞ সন্তানরা আজ পালন করবে মা দিবসকে নানা মাত্রায়।
প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বব্যাপী মা দিবস পালিত হয়। সময়টা আজ থেকে দেড়শ’ বছর আগের। সপ্তাহের প্রতি রবিবারের সকালটা অ্যানা জারভিসের জন্য একদম অন্যরকম। নিজের প্রতিষ্ঠিত সানডে স্কুলে বাচ্চাদের দিতেন বাইবেল পাঠ। বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতি হতো তার নিজের। এদের মুখাবয়বে খুঁজে পেতেন নিজ মায়ের মুখ। ভালবাসা আর শ্রদ্ধায় বিনম্র হতে ইচ্ছে করত মায়ের প্রতি। এ বোধ থেকেই ১৯০৫ সালে মাকে ভালবাসা ও সম্মান জানাতে প্রবর্তন করেন মাদার্স ডে বা মা দিবসের। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর স্বীকৃতি ও প্রসার ঘটে ১৯১৪ সালে। এরই ধারাবাহিকতায় আমেরিকার সাথে এবার ১৩মে ‘মা দিবসটি’ পালন করবে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া, জার্মানীসহ ৪০টি দেশ।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূচি পালন করবে।
শোক বার্তার রিপোর্টটি তৈরী করেছেন নিজাম ইউ জায়গীরদার
অর্থমন্ত্রীর শোক : সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমের সড়ক দুর্ঘটনায় আকষ্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এক শোক বার্তা অর্থমন্ত্রী বলেন, ইফতেখার হোসেন শামীম আজীবন দেশপ্রেমকে বুকে লালন করে মহান মুক্তিযুদ্ধ সহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একজন অগ্রসৈনিক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করে সিলেট অঞ্চলে আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত করেছেন। তার আকষ্মিক মৃতুতে সত্যিকার অর্থে এ অঞ্চলে আওয়ামীলীগ একজন দক্ষ রাজনৈতিক সংগঠককে হারালো।
তিনি মহান আল্লাহর দরবারে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্খী-শুভানুধ্যায়ী সকলের প্রতি সহমর্মিতা জানান। একই সঙ্গে মন্ত্রী ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানী নগরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্যান্যদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন।
শমশের মবিন চৌধুরী বীর বিক্রমের শোক : বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ ইফতেখার হোসেন শামীমসহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৯জন নিহতদের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব, রাষ্ট্রদূত ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমশের মবিন চৌধুরী বীর বিক্রম।
তিনি এক শোক বার্তায় বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সংঘঠক ইফতেখার হোসেন শামীম। তার মৃত্যুতে সিলেটবাসী হারিয়েছে ত্যাগী একজন রাজনীতিবিদকে।
তিনি বলেন, আমি ইফতেখার হোসেন শামীমসহ যারা এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই । আর যারা আহত হয়েছেন তাদের আশু রোগ মুক্তি ও সুস্থ্যতা কামনা করছি।
বিএনপি : অপর শোক বার্তায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক ডাঃ শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের শামীম বলেন সিলেটের এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তার রাজনৈতিক জীবনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন, ৭১ এ যুদ্ধ করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি দেশের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন। আমরা তার বিদেহী আত্বার মাগফিরাত কামনা করছি ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
সিলেট জেলা যুবদল : খালেদা-তারেক মুক্তি পরিষদ : শোক বার্তায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোঃ আব্দুল বাতিন,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সিলেট জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, বেগম খালেদা জিয়া-তারেক রহমান মুক্তিপরিষদ সিলেট জেলা শাখার আহবায়ক ডা: আরিফ আহমদ মোমতাজ রিফা, সিনিয়র যুগ্ন-আহবায়ক নিজাম উদ্দীন জায়গীরদার, যুগ্ন-আহবায়ক রায়হান আহমদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামি লীগের শীর্ষ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমের অকাল মৃত্যুতে সিলেটবাসী হারিয়েছে রাজনীতিতে পথ চলার এক সাহসী যোদ্ধাকে। শোক বার্তায় নেতৃবৃন্দ সড়ক দুর্ঘটনায় আরো যারা নিহত হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।
জামায়াত নেতৃবৃন্দের শোক : সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইফতেখার হোসেন শামীম এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ডাঃ শফিকুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান এক শোক বার্তায় সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইফতেখার হোসেন শামীম এর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সিলেটের রাজনীতিতে ইফতেখার হোসেন শামীম ছিলেন একজন সজ্জন ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুতে সিলেটবাসী একজন ত্যাগী নেতৃত্বকে হারাল। আল্লাহ যেন তাঁর পরিবারকে শোক সইবার শক্তি দেন আমীন।
সিলেট জামায়াত সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইফতেখার হোসেন শামীমের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন সিলেট জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
এক যৌথ শোক বার্তায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক দায়িত্বশীল অধ্যাপক ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরীর আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা দক্ষিণ আমীর মাওলানা হাবীবুর রহমান, জেলা উত্তর আমীর হাফিজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খান, সিলেট মহানগর নায়েবে আমীর ডাঃ সায়েফ আহমদ ও হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, জেলা দক্ষিণ নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, মহানগর সেক্রেটারী সিরাজুল ইসলাম শাহীন, জেলা দক্ষিণ সেক্রেটারী মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, উত্তর সেক্রেটারী ভারপ্রাপ্ত ইসলাম উদ্দিন, মহানগর সহকারী সেক্রেটারী মোঃ ফখরুল ইসলাম ও মাওলানা সোহেল আহমদ প্রমুখ শোক প্রকাশ করেছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সিলেটের রাজনীতিতে ইফতেখার হোসেন শামীম ছিলেন একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সিলেটবাসী একজন প্রতিভাবান নেতৃত্বকে হারাল যা সহজে পূরণ হবার নয়। নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
বস্টন নিউ ইংল্যান্ড আওয়ামী লীগ : বস্টন নিউ ইংল্যান্ড আওয়ামী লীগ কার্যকরী কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ইউসুফ সড়ক দুর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইফতেখার হোসেন শামীমসহ অন্যান্যদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। নিউ ইংল্যান্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একই সাথে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছে এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে আর যারা আহত হয়েছেন তাদের সুস্থ্যতা কামনা করেছে।
জাতীয় অধ্যাপক ডা. শাহলা খাতুনের শোক : সড়ক দুর্ঘটনায় জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমের আকষ্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. শাহলা খাতুন। তিনি এক শোক বার্তায় বলেন, ইফতেখার হোসেন শামীম দেশপ্রেমকে মনে প্রাণে লালন করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। একইভাবে সিলেটের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন একজন প্রাণপুরুষ। তার সুদক্ষ নেতৃত্ব এবং বিচক্ষণ মনোভাব শুধুমাত্র আওয়ামীলীগ নয় সিলেটের প্রতিটি মানুষের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলো।
তার মৃত্যুতে সত্যিকার অর্থে আমরা একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিক ব্যক্তিকে হারালাম।
তিনি ইফতেখার হোসেন শামীম সহ দুর্ঘটনায় নিহত অন্যান্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং প্রত্যেকের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
রূপালী ব্যাংক চেয়ারম্যানে শোক : সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমের আকষ্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহমদ আল-কবির। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, ইফতেখার হোসেন ছিলেন সিলেটের মাটি ও মানুষের প্রিয় ব্যক্তিত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি আজীবন কাজ করেছেন। কয়েক দশক যাবৎ সিলেট অঞ্চলকে নেতৃত্ব দিয়ে এ এলাকায় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনকে সুসংগঠিত করেছেন।
তিনি মরহুমের কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ : জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহ সভাপতি ইফতেখার হোসেন শামীমের আকষ্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ।
সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মফিজুর রহমান বাদশা, সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নিজাম উদ্দিন এক শোকবার্তায় বলেন, ইফতেখার হোসেন শামীম ছিলেন সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন দক্ষ অভিভাবক। তিনি তার কর্মের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সর্বোপরি সিলেটের মানুষের কাছে একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত, মর্মাহত।
নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে নিহতের পরিবার পরিজন সহ সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শ্রমিক লীগ : মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীম দূর্ঘটনায় নিহত হওয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন মাষ্টার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ফারুক, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা শ্রমিক লীগের প্রধান উপদেষ্ঠা সৈয়দ মোস্তফা কামাল মতই, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি প্রকৌশলী এজাজুল হক এজাজ, সাধারণ সম্পাদক শামীম রশিদ চৌধূরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন ভূইয়া, সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল, আব্দুস সত্তার, সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর খাঁন, দপ্তর সম্পাদকম দুলন রঞ্জন দেব। তারা এক বিবৃতিতে বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে মর্মন্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হন বীর মুক্তি যোদ্ধা বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ ইফতেখার হোসেন শামীম তার মুতে্যু সিলেটবাসী হারিয়েছে রাজপথ কাঁপানো এক সাহসী সৈনিক কে। আমরা হারিয়েছি আমাদের রাজনৈতিক অভিবাভক কে। আমরা তার রুহেল মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আর আহত তার পরিবারে সদস্যদের সুস্থতা কামনা করি।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জে.এস.ডি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি জনাব সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জনাব সেলীম জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মোস্তাক আহমদ বাবু এবং সিলেট মহানগর জে.এস.ডি-র সভাপতি জনাব মনির উদ্দীন মাষ্টার, সাধারণ সম্পাদক জনাব মোফাজ্জল করিম চৌধুরী রাসেল ৭১-এর বীর মুক্তিযোদ্ধা সিলেটের বহুল আলোচিত ও অত্যন্ত সুপরিচিত আওয়ামীলীগ নেতা জনাব ইফতেখার হোসেন শামীম-এর সড়ক দুর্ঘটনায় আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ও তার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। বিজ্ঞপ্তি
সিলেট সদর উপজেলা বিএনপি : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিলেট জেলা শাখার সহ-সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীম সহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ, সাধারণ সম্পাদক সিলেট সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কাশেম।
শোক বার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সিলেটের প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমের মৃত্যুতে সিলেটবাসী একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে হারালো। আমরা তার রূহের মাগফিরাত কামান করি এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমাবেদনা জ্ঞাপন করছি।
গোলাপগঞ্জ (সিলেট) থেকে মাহফুজ আহমদ চৌধুরীঃ গোলাপগঞ্জ উপজেলার বুধবারী বাজার ইউনিয়নের এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিন পর বাজারের পাশের একটি ডোবা থেকে তার গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা যায়, গত রোববার প্রবাসী অধ্যুষিত ঐ জনপদের ব্যবসায়ী বাগিরঘাট গ্রামের মৃত ইমান উদ্দিনের পুত্র স্বপন মিয়া (৩৫) রাতের খাবার শেষে বাড়ি থেকে দোকানে রাত্রী যাপন করার জন্য যাবার পথে দুষ্কৃতিকারীরা তাকে অপহরণ করে। স্বপন স্থানীয় বুধবারী বাজারের করিম এন্ড স্বপন স্টোরের মালিক। নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বিষয়টি স্বপনের আত্মীয় স্বজন গোলাপগঞ্জ থানাকে অবহিত করেন। তার ব্যবহৃত মোবাইলগুলো বন্ধ থাকলে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয় তাকে হয়তো মেরে ফেলা হয়েছে, না হয় কোথায় নিয়ে গুম করা হয়েছে। স্বপন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি আত্মীয়স্বজনকে চরম দুশ্চিন্তায় ফেলে অপরদিকে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সাধারণ জনগণের মধ্যে এ নিয়ে অনেকটা আতংক বিরাজ করে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় বাগিরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ডোবায় তার লাশের সন্ধান পাওয়া যায়। স্থানীয় জনগণ জানান এলাকার এক ব্যক্তি উক্ত স্থানে ঘাস কাটতে গেলে কিছু পচে যাওয়ার গন্ধ অনুভব করে কাছে গেলে দেখতে পান একজন মানুষের লাশ পড়ে আছে। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বুধবারী বাজারের ব্যবসায়ীদের অবহিত করেন। বিষয়টি দেখার জন্য এলাকার লোক ছোটে এসে স্বপনের লাশ সনাক্ত করার পর গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বপনের গলায় তার পরনের লুঙ্গী দিয়ে ফাঁস লাগানো ছিল। পুলিশ আলামত হিসাবে লাশের স্থান থেকে এক জোড়া সেন্ডেল একটি বোতল উদ্ধার করে। মৃতের গায়ে অন্য কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তাকে দুর্বৃত্তরা গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করেছে। লাশ উদ্ধারের সাথে সাথে স্থানীয় জনতা বাগিরঘাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। সভায় বক্তারা প্রকৃত খুনীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। গোলাপগঞ্জের ঐ জনপদে একজন নিরীহ বিশিষ্ট ব্যবসায়ীকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে হত্যা করার বিষয়টি সর্বমহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এ ব্যাপারে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি। জানা গেছে, স্বপন ,মা স্ত্রী ও ৪ মাসের এক শিশু কন্যা রেখে গেছেন। স্বপন ছোট বেলায় আঘাত প্রাপ্ত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধি হয়ে পড়েছিলেন। তার ছোট ভাই করিম বড় ভাইয়ের সাথে ব্যবসায় সহযোগিতা করতেন। এদিকে, ঘটনার পর গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক শেখ, স্থানীয় বুধবারী বাজার ইউপি চেয়ারম্যান, ফখরুল ইসলাম আছকির, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বিকেলে এএসপি সার্কেল গোপাল চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায়। গোলাপগঞ্জ উপজেলার ব্যবসায়ীদের সর্ববৃহৎ সংগঠন গোলাপগঞ্জ বণিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান চৌধুরী ও সেক্রেটারী সাংবাদিক আব্দুল আহাদ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের দায়িত্ব প্রশাসনের। অবিলম্বে প্রকৃত দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার ও স্বপন হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তারা প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানান।
সিলেটনিউজসাইট : নিখোঁজ দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম.ইলিয়াস আলীকে সরকারের কোন এজেন্সী অপহরণ করেছে, ইতিপুর্বে এটি প্রমানিত হয়েছে। তাই বেগম খালেদা জিয়ার বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে থাকে ফেরত না দিলে ঘোষিত কঠোর কর্মসুচির বিকল্প থাকবেনা বলে জানিয়েছেন যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মান্নান বলেন সময়মত ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে না দিলে দেশে ভয়াবহ পরিস্থির সৃষ্টি হবে। আর সরকারকে তার দায়দায়িত্ব নিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন বলেন আওয়ামীলীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশে মানবাধিকার লঙ্গনের ঘটনা ঘটে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশে একের পর এক গুম, হত্যা ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। সরকারকে এসব গুম ও নিখোঁজের ঘটনার ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে এক সময় জনগণের বিচারের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে। যারাই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলছে তাদেরকেই আজ খুন, হত্যা ও গুম করা হচ্ছে। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলায় ইলিয়াস আলীকেও গুম করা হয়েছে ।
যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোঃ আব্দুল বাতিন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান দুর্নীতিবাজ সরকার নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে, বিশেষ করে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের টাকার বস্তার কেলেঙ্কারী ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সরকার তাদের গুপ্ত বাহিনী দিয়ে এম ইলিয়াস আলীকে গুম করে। বিশেষ করে ইলিয়াস আলী টিপাইমুখ বিরোধী কঠোর অবস্থানের কারনে ভারতকে খুশি করার জন্য এ অপহরন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এম.ইলিয়াস আলীকে অবিলম্বে উদ্ধার করে বিনাশর্তে তার স্ত্রী সন্তানদের কাছে ফেরত দেওয়ার দাবীতে সিলেট জেলা যুবদল গতকাল বিকাল ৩টায় আম্বরখানাস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। নগরীর গুরুত্ব পূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কোর্ট পয়েন্টে এসে এক বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়। সিলেট জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-সম্পাদক নিজাম উদ্দিন জায়গীরদারের পরিচালনায় সমাবেশে জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছাদিকুর রহমান ছাদিক, সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, এনামুল কবির বাদশা,আব্দুল আজিজ, আব্দুস শুকুর, মিনহাজ উদ্দিন মুসা,এডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব, হেলাল উদ্দিন, আলী আহমদ হীরা,মামুনুর রহমান মামুন, আব্দুল মালেক, সাহেদুল ইসলাম বাচ্চু,আল মামুন খাঁন,শাহাব উদ্দিন আহমেদ, দেলয়ার হোসেন দিলু,হাবিবুর রহমান হাবিব,অধ্যাপক মঈন উদ্দিন,সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সেলিম আহমেদ মাহমুদ,হেলাল উদ্দিন,সাব্বির আহমদ,মন্তাজ হোসেন মুন্না,সাহেদ আহমদ,মানিকুর রহমান মানিক, আজাদুর রহমান আজাদ, আব্দুল হালিম,আলতাফ হোসেন,সুজন আহমেদ,সোহেল আহমদ,সোলেমান আহমদ সিদ্দিকী,শরিফ উদ্দিন মেহেদি, আব্দুস সোবহান,রহমত আলী তারেক,শফিক নুর, ফারুক হোসেন,এটিএম ফয়েজ, অবনিকান্ত সিং,আব্দুল মজিদ,আবুল কালাম প্রমুখ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ইলিয়াস আলীকে রোববারের আগে সন্ধান দেয়া না হলে লাগাতার হরতাল দেওয়া হবে। শুক্রবার রাজধানীর ভাসানী হলে আয়োজিত ১৮ দলীয় যৌথ সভায় এ কথা বলেন তিনি।মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব নিয়েছেন এ দেশের জনগণের নিরাপত্তা দেয়ার সুতরাং নিরাপত্তা আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) দিতে হবে। ইলিয়াস আলীকে আমাদের সামনে ও তার পরিবারের সামনে অবশ্যই হাজির করতে হবে। যে মুহূর্তে ইলিয়াস আলীকে আমাদের সামনে জীবিত হাজির করবেন সেই মুহূর্তে হরতাল প্রত্যাহার করবো। আর তা হলে লাগাতার হরতাল চলতে থাকবে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শুক্রবার দলের এক সভায় বলেন, “৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, ইলিয়াস আলীকে পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোববারের হরতাল প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন।“আমরা বলব, যে মুহূর্তে তাকে হাজির করা হবে, সেই মুহূর্তে হরতাল প্রত্যাহার করা হবে। অন্যথায় লাগাতার হরতাল চলবে। ইলিয়াস আলীকে ‘গুম’ করা হয়েছে দাবি করে রবিবার সারাদেশে হরতাল ডেকেছে বিএনপি।তিনি ছিলেন দাপুটে ছাত্র নেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অন্যতম ত্রাস। যার বিরুদ্ধে ছিল হত্যা ও গুম করার অনেক অভিযোগ। সেই এম ইলিয়াস আলী এখন নিজেই নিখোঁজ। গুম কিংবা খুনের শিকার।
বিএনপি এ নিয়ে সরকারকে দায়ী করেছে। বলা হচ্ছে সরকারের আইনশৃংখলা বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে গুম করে রেখেছে।
বাজারে ছড়িয়ে আছে অনেক গুজব। ইলিয়াস আলী তার দীর্ঘ ছাত্র ও জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে কম শত্রু সৃষ্টি করেননি, এমন মন্তব্য করে অনেকেই বলছেন এসব শত্রুপক্ষের যে কোনো পক্ষই হতে পারে তার নিখোঁজ হওয়ার কারণ।
সিলেটের রাজনীতির কলকাঠী নাড়ছেন যে ক’জন রাজনীতিবিদ তার মধ্যে ইলিয়াস আলী মূল ভূমিকায়। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সময় কিছুটা চাপের মধ্যে থাকলেও এসময়ে তিনিই বৃহত্তর সিলেটের রাজনীতির পাকা খেলোয়াড়। বিরোধীদলের একজন নেতা হওয়ার পরও ইচ্ছেমত ছড়ি ঘোরাতেন সিলেটের রাজনৈতিক ময়দানে।
ইলিয়াস আলী বৃহত্তর সিলেটের বিরোধীদলীয় রাজনীতির মহীরুহ হয়ে উঠেছেন এমনটাই মন্তব্য তার সঙ্গে রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের। বিএনপিতে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি।
বাংলানিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক উত্থানের ধারাবাহিক চিত্র। পাঠকের জন্য তা তুলে ধরা হলো।
সিলেটের এমসি কলেজে এইচএসসি অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতির সাথে যুক্ত হন এম ইলিয়াস আলী। সে সময় তিনি ছিলেন ছাত্রলীগের একজন কর্মী।
১৯৮১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর তিনি ছিলেন জসিম উদ্দিন হলের আবাসিক ছাত্র।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই ইলিয়াস আলী যোগ দেন এরশাদের ছাত্রসমাজে। এসময় অস্ত্রবাজির রাজনীতি শুরু করেন। নতুন বাংলা ছাত্রসমাজের ক্যাডার হিসেবে যোগ দিলেও পরে দলবদল করে ছাত্রদলের নেতা হয়ে ওঠেন ইলিয়াস আলী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই দলে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি ঢুকিয়েছিলেন ইলিয়াস আলী। গড়ে তুলেছেন নিজস্ব গ্রুপ। ছাত্রদলের ক্যাডার পরিচিতি দিয়েই উত্থান তার। একের পর এক ঘটনার নায়ক হয়ে জন্ম দিতে থাকেন অভন্তরীণ সংঘাত। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যায় বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। ইলিয়াস আলী পরিণত হন ত্রাস সৃষ্টিকারী এক সন্ত্রাসনির্ভর ছাত্রনেতায়। বহু খুনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সে কারণে একাধিকবার গ্রেফতার করা হয় তাকে। জেলে কাটে সময়।
১৯৮৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৮৮ সালের ১১ ডিসেম্বর ছাত্রদল নেতা বজলুর রহমান শহীদ ওরফে পাগলা শহীদ হত্যাকাণ্ড, ৮৯ সালের ২৯ নভেম্বর তার নেতৃত্বে ডাকসু কার্যালয় ভাংচুর, ৯২ সালের ৩ আগস্ট ছাত্রদলের রতন গ্রুপের সঙ্গে ইলিয়াস গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির নিহত হওয়া এবং এই সংঘর্ষের জের ধরে ৯২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মামুন ও মাহমুদ নাম দুই ছাত্রদল নেতার হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক ছিলেন ইলিয়াস আলী। মামুনকে হত্যা করে তার লাশ গুম করা হয়েছিলো সূর্যসেন হলের পানির ট্যাংকিতে।
এছাড়াও প্রতিপক্ষ গ্রুপের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা মির্জা গালিব ও ছাত্রলীগ নেতা লিটন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯৯১ সালে গ্রেফতার করা হয় ইলিয়াস আলীকে।
ওই বছর ক্ষমতায় আসে বিএনপি। তাই এক বছরের মধ্যেই ছাড়া পান ইলিয়াস আলী। এর পর দলের প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্রদলে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন তিনি। ৯২ সালে ১৬ জুন ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা হলে রহুল কবির রিজভী আহমেদ সভাপতি ও এম ইলিয়াস আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
কিন্তু তখনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় বিএনপির শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা তার প্রতি বিরাগভাজন হয়ে ওঠেন। মাত্র ৩ মাসের মাথায় ছাত্রদলের কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এ সময় বিএনপি ক্ষমতায় থাকা স্বত্বেও ৯৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মামুন ও মাহমুদ হত্যা মামলায় আবার গ্রেফতার হন ইলিয়াস আলী। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। দুই বছর কারাবাসের পর মুক্তি পান তিনি। শর্ত হিসেবে বিএনপির হাইকমান্ডকে ইলিয়াস আলী কথা দেন কেবলমাত্র তার নিজ এলাকা বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা ছাড়া অন্যকিছু নিয়ে মাথা ঘামাবেন না।
এরপর ঢাকার রাজনীতি ছেড়ে সিলেটে যান ইলিয়াস আলী। কিন্তু সিলেট গিয়েই ভুলে বসেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে দেওয়া তার ওয়াদার কথা।
সে সময় থেকেই ভয়ঙ্কর মূর্তি নিয়ে সিলেট দাপিয়ে বেড়ান এই নেতা। শুধু নিজ এলাকায় বিএনপি সংগঠিত করা নয় সিলেটে তাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের একটি শক্তিশালী গ্রুপ গড়ে উঠে। তিনি নিজেও তার বেপরোয়া আচরণ অব্যাহত রাখেন। নিজস্ব বলয় গঠন করে সিলেটের রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসেন ইলিয়াস আলী।
১৯৯৬ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
সিলেটের অনেক সিনিয়র রাজনীতিবীদ ইলিয়াস আলীর ও তার দলবলের হামলার মুখে পড়েন। বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ এম সাইফুর রহমান, আবদুস সামাদ আজাদ, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, এসএমএ কিবরিয়া, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, আবুল মাল আবদুল মুহিতের মতো ব্যক্তিরা ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক কূটচালের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন।
শুধু সিলেট আর ঢাকায় নয় দেশের বাইরেও উশৃংখল আচরণের দায়ে পুলিশের নজরবন্দি হতে হয় ইলিয়াস আলীকে।
২০০০ সালে লন্ডনের মিল্টন কিন্স শহরে জয়পুর রেস্টুরেন্টে ওয়েটারকে হত্যার হুমকি দেন তিনি। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে কঠোরভাবে হুশিয়ার করে দিয়ে যায় তাকে।
২০০১ সালে এমপি হওয়ার পর তার এলাকা বিশ্বনাথ বালাগঞ্জে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করার অভিযোগ উঠে ইলিয়াস আলীর বিরুদ্ধে। তার নির্বাচনী এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী আর প্রশাসনকে ইচ্ছেমতো দলীয়করণের প্রচেষ্টায় নামেন তিনি।
প্রকাশ্য আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মাঠে নামে ‘ইলিয়াস বাহিনীর লোক’ নামে পরিচিত একদল ক্যাডার-এমন অভিযোগ তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের।
এসব কিছুর প্রতিবাদ করারও সাহস ছিলো না মানুষের এমনকি ভুক্তভোগীদের। ২০০১ সালের ওইসব ঘটনার জের ধরে মামলা হয়েছে ১১ বছর পর গত মঙ্গলবার রাতে ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন সকালে। সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ এনে দুটি মামলা হয়।
২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ এনে মামলা দুটি করেছেন আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ব্যবসায়ী বাশারত আলী বাঁচা।
মামলায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ভয় দেখানো, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয়েছে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইলিয়াস আলী ও তার লোকেরা বাদীর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।
এতসব অত্যাচার নিপিড়ণের অসংখ্য বিতর্কিত ঘটনার নায়ক ইলিয়াস আলী সবকিছু পাশ কাটিয়ে ফিল্মি স্টাইলে দেশব্যাপী পরিচিত হয়ে উঠেন।
সর্বশেষ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এ কিবরিয়া হত্যা এবং ব্রিটিশ হাইকমশিনার আনোয়ার চৌধুরীরকে হযরত শাহজালাল মাজার গেটে হত্যা চেষ্টার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
তবে এতকিছুর পরেও ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী এলাকা বিশ্বনাথ বালাগঞ্জের উন্নয়নে তার সময়ের অবদান এখনও লোকমুখে। সাধারণ মানুষ রাজনীতির কূটচাল ভুলে ইলিয়াস আলীকে তাদের উন্নয়নের কাণ্ডারী ভাবেন।
ইলিয়াস আলী নিঁখোজের পেছনে নিজ দলের প্রতিপক্ষ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, গোয়েন্দা সংস্থা, সরকার ও জামায়াতে ইসলামের হাত থাকতে পারে বলে অনুমান করছেন সিলেটবাসী।
আর সিলেট-লন্ডন কানেকশন, কোটি কোটি টাকার লেনদেন এসব বিষয় নিয়েও কথা শোনা যায়।
ইলিয়াস আলী জীবিত ফিরলেই হয়তো মূল তথ্য জানা যাবে। নয়তো সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ যে তথ্য উদঘাটন করবে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। আর নয়তো ইলিয়াস আলী উপাখ্যানের শেষ অংশ আর কখনোই জানা যাবে না।
বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি এম ইলিয়াস আলীকে সরকার তুলে নিয়ে গেছে অভিযোগ করে অবিলম্বে তাকে স্ব-শরীরে সুস্থ অবস্থায় খুঁজে বের করে জনসম্মুখে আনার দাবি করেছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমশের মবিন চৌধুরী বীর বিক্রম। তিনি বলেন, “অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে বাধ্য করা হবে ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করতে।”
মঙ্গলবার রাতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। বুধবার সকালে প্রেসবিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে এ প্রতিবাদ জানান।
শমশের মবিন চৌধুরী বলেন, “উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী সাবেক ছাত্রনেতা ও সাবেক এমপি, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত নাম। মঙ্গলবার রাত দশটায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। থানা থেকে ফোন করে তার বাসায় জানানো হয়, তার গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ইলিয়াস আলীর আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের কাছে খোঁজ নিয়ে তার কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না।”
শমশের মবিন চৌধুরী বলেন, “এই বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। চালকসহ তিনি নিখোঁজ হয়েছেন।”
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারের তরফ থেকেই তাকে তুলে নেয়া হয়েছে অভিযোগ করে শমশের মবিন চৌধুরী বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এখন তারা স্ব-শরীরে নেতাদের গুম করছে সরকার কোনো মতেই বিরোধীদলকে সহ্য করছে না।”
শমশের মবিন চৌধুরী বলেন, “ইলিয়াস আলীকে গুম করা হলে এই দেশে গণতন্ত্রের মৃত্যু হবে।”
তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কোনো বিলম্ব ছাড়া ইলিয়াস আলীকে স্ব-শরীকে সুস্থ অবস্থায় জনসম্মুখে হাজির করার দাবি করেন।
তিনি বলেন, “ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া এদেশের মানুষ মেনে নেবে না। সরকার তাকে বের করতে ব্যর্থ হলে এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।
আমরা চাই অবিলম্বে তাকে বের করা হোক, অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে বাধ্য করা হবে ইলিয়াস আলীকে হাজির করতে।”
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “আমরা কি মধ্যযুগে বাস করছি?কিছু দিন পূর্বে সিলেট জেলা ছাত্রদলের দিনার নিখোজ হয়েছে । আমরা এর অবসান চাই।”
তিনি সরকারকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহবান জানান।
নগর প্রতিনিধি,আজাদ আহমদ : বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে। আম্বরখানা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হওয়া বিশাল মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে সিটি কর্পোরেশন পয়েন্টে এসে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়। বিএনপি,যুবদল,ছাত্রদল আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক ডাঃ শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী। কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আবুল কাহের শামীমের পরিচালনায় সভাপতির বক্তব্যে ডাঃ শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন বলেন,বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী গতকাল বিকেলে গুলশানের বাসা থেকে বের হলেও আর ফিরে যায়নি। তাকে অজ্ঞাত লোকেরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা এখন পর্যন্ত তার কোন খোঁজ দিতে পারেনি।তিনি তার জুড়ালো বক্তব্যে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন ইলিয়াস আলীকে আমদের মাঝে ফিরিয়ে দিন । এ সময় অবিলম্বে নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর সন্ধান দিতে না পারলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান,বিএনপি নেতা এড, হাবিবুর রহমান হাবিব, সালেহ আহমদ খসরু,মিফতাহ সিদ্দিকী,ফারুক আহমদ, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশিদ, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল বাতিন,ইকবাল বাহার চৌধুরী,বাপ্পু সেন,নিজাম উদ্দিন জায়গীরদার,আব্দুল আজিজ,জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব, শামীম মজুমদার,আব্দুল মন্নান,আনোয়ার হোসেন মানিক,মোঃ আবুল কাশেম,আজির উদ্দিন চেয়ারম্যান, এজহারুল হক মন্টু,হেলাল উদ্দিন , আক্তার আহমদ,আলী আহমদ হিরা, আলা উদ্দিন আলাই । রেজাউল করিম নাচন,ওয়ারিছ আলী , ফখরুল ইসলাম,হাবিবুর রহমান হাবিব,সাহেদ আহমদ, সোহেল আহমদ, হরিদাস পাল শাওন,মিজান আহমদ,আজিজুর রহমান আজিজ , মতিলাল, মুরাদ আহমদ, গাজি লিটন,সুলেমান সিদ্দিকী,সা ইদ আহমদ শাহীন , সাহাব উদ্দিন, শফিকুর রহমান, হানুর ইসলাম ইমন, মোস্তাকুর রহমান রুমন , আবু বকর সিদ্দিকী , সুচিত্র চৌধুরী বাবলূ , আব্দুল মালেক, সাবের চৌধুরী , এখলাছুর রহমান , মুন্না, সোহেল আহমদ, অসমান গনি , নজমুল ইসলাম রাজু, আলী আব্বাস,শাফায়েত হোসেন সাজ্জাদ, শহিদুল ইসলাম শাহীন,রুহেল আহমদ,বদরুল আহমদ , শহিদ আহমদ, আব্দুল আহাদ সুমন , মইনুল ইসলাম মঞ্জুর, চাঁদ আলী , সোয়েব আহমদ , ফারুক হোসেন , সেবুল আহমদ, এটিএম ফয়েজ , আবুল ফয়েজ জাকের , জুয়েল আহমদ , জয়নুল উদ্দিন , এফ আই ফয়েজ , শফিকুল হাসান শফিক, প্লাবন পুরকাস্থ সুহেল, জেরিন আশরাফ , আনোয়ারুল হক, ইমন পুরকায়স্থ , রবি আহমদ , হানিফ আহমদ , রেদয়ান হক , সওকত আহমদ, ফারুক ,এম কে করিম , লিটন আহমদ ,মামুনুর রশিদ , রাজন আহমদ ,আমজদ হোসেন , ওমর ফারুক বাপ্পি,আব্দুল কাইয়ুম , দুলাল রেজা , নোমান আহমদ,
খুলনা-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ননী গোপাল মণ্ডল দাকোপ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জয়ন্ত রানী সরদারকে গতকাল বিকালে প্রকাশ্যে মারধর করেছেন। এমপি জয়ন্ত রানীকে চুলের মুঠি ধরে চড়-থাপ্পড় মারেন।একপর্যায় পূজা অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে লাথি মেরে ফেলে দেন। এতে উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ঝাঁটা ও চপ্পল হাতে এমপিকে ধাওয়া করলে পুলিশ ফাঁকা গুলি চালিয়ে তাকে রক্ষা করেন। এ সময় এমপির অনুগতদের সঙ্গে পূজারিদের সংঘর্ষে পুলিশের একজন এসআইসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।জানা যায়, গতকাল বিকালে খুলনার দাকোপ উপজেলার দাকোপ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা চড়ক পূজা ও মেলার আয়োজন করে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে খুলনা-১ আসনের এমপি ননী গোপাল মণ্ডল ১৫-২০ জন অনুগত কর্মী নিয়ে পূজা স্থলের মঞ্চে ওঠেন। এ সময় এমপি মঞ্চে থাকা দাকোপ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়ন্ত রানী সরদারকে চুলের মুঠি ধরে চড়-থাপ্পড় মারেন। একপর্যায় জয়ন্ত রানীকে লাথি মেরে মঞ্চ থেকে নিচে ফেলে দেন। এ অবস্থায় এমপির লোকজন মঞ্চে থাকা অন্য অতিথিদের মারধরসহ চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর শুরু করলে উপস্থিত কয়েক হাজার নারী-পুরুষ পূজারি ক্ষিপ্ত হয়ে এমপি ও তার লোকদের ধাওয়া করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২০-২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশ পাহারায় এমপি ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার সময় ইটের আঘাতে দাকোপ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুল ইসলামসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে এসআই ওহিদুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী দাকোপ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা খান বলেন, এমপি ননী গোপাল মণ্ডল দলবল নিয়ে অতর্কিতে পূজা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠেই নারী নেত্রী জয়ন্ত রানীর চুলের মুঠি ধরে চড়-থাপ্পড় মারেন। একপর্যায় তাকে লাথি মেরে মঞ্চ থেকে ফেলে দেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি রঘুনাথ রায় বলেন, এমপি ননী গোপাল মণ্ডলের নেতৃত্বে হামলার পর চড়ক পূজা পণ্ড হয়ে যায়।
আলোচিত চড়ক পূজা কমিটির সভাপতি বিনয় কৃষ্ণ রায় মুঠোফোনে বলেন, পূজা অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা আওয়ামা লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ হারুনুর রশিদকে প্রধান অতিথি করায় এমপি ননী গোপাল ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালায়। একশ বছরের পুরনো এই পূজা অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা আগে কখনোই ঘটেনি।
খুলনা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি ও খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, চড়ক পূজা কমিটি আমাকে প্রধান অতিথি করে প্রচারণা চালায়। কিন্তু এমপি ননী গোপাল মণ্ডল বিরোধিতা করায় অনুষ্ঠানে যাইনি। শুনেছি এমপি ও তার লোকজনের হামলায় পূজা অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে গেছে।
বক্তব্য নিতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এমপি ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এখন নেই। দাকোপ থানার ওসি বজলুর রহমান বলেন, এমপি ননী গোপালকে নিরাপদে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে।
সিলেটনিউজসাইট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুরস্কে তাঁর তিন দিনের সরকারি সফরের পর আজ সকালে দেশে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গী সদস্যদের বহন করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ বিমান আজ সকাল সাতটা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।এ সময় জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনী প্রধানগণ, কূটনৈতিক কোরের ডিন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।প্রধানমন্ত্রী বিমানে উঠে ফ্লাইটের যাত্রীদের সঙ্গে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি একই ফ্লাইটে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে দেশে ফেরা প্রবাসীদের খোঁজ-খবর নেন।শেখ হাসিনা দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসিফ তাইপ এরদোগানের আমন্ত্রণে আঙ্কারা সফর করেন।সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীদের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, কৃষি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরো জোরদার করার লক্ষ্যে সাতটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম হূৎপিণ্ডের সাহায্যে তিন বছর বয়সী একটি শিশু আট মাসেরও বেশি সময় ধরে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, যুক্তরাজ্যে এটি একটি রেকর্ড। যুক্তরাজ্যের কেন্ট কাউন্টির গিলিংহামের ওই শিশুটির নাম জো স্কেরাট। তার হূৎপিণ্ড সারা শরীরজুড়ে রক্ত সঞ্চালনে সমর্থ নয় বলে প্রাথমিক পরীক্ষায় ধরা পড়ে। তাই শিশুটির হৎপিণ্ডে সহায়ক হিসেবে কৃত্রিম একটি হূৎপিণ্ড অস্থায়ীভাবে সংযোজন করা হয়। এভাবে ২৫১ দিন অপেক্ষার পর গত বছর শিশুটির হূৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়।
জো স্কেরাটের মা র্যাচেল বলেন, কৃত্রিম হৎপিণ্ড সংযোজনের পর থেকে জো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে। তবে একজন হূৎপিণ্ড দানকারীর জন্য তখন থেকেই আমাদের দীর্ঘ অপেক্ষা শুরু হয়। ২০০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমরা চিন্তিত হয়ে পড়ি। হূৎপিণ্ড না পাওয়া গেলে কী হবে, তা নিয়ে দুর্ভাবনা শুরু হয়। তবে বেশিদিন আর অপেক্ষা করতে হয়নি। ২৫১তম দিনে আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত সেই সুসংবাদ আসে। হূৎপিণ্ড দিতে আগ্রহীর সন্ধান মেলে। এরপর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই হূৎপিণ্ড জোর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। জো বাড়ি ফেরে। আনন্দময় দিনটি উদ্যাপন করা হয় ওর প্রিয় খাবার পিৎজা খাওয়ার মধ্য দিয়ে। বিবিসি।
সিলেটনিউজসাইট :: ডেসটিনি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের বিষয়ে আগামী মঙ্গলবার আদেশ দেবেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি ফরিদ আহম্মদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের দিন ধার্য করেন।অদালতে ডেসটিনির পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট এ এফ হাসান আরিফ। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মুরাদ রেজা।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস)’কে বহনকারী একটি গাড়ি থেকে বিপুল অংকের টাকা পাওয়ার ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। ইস্যুটি বিরোধীদল তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করে মহাজোট সরকারের তীব্র সমালোচনা করছে। তারা রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পদত্যাগ দাবি করেছে।তীব্র সমালোচনা সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে বিরোধীদলসহ অনেকেরই রয়েছে প্রবল আপত্তি। বিরোধীদল থেকে দাবি উঠেছে, ওই ঘটনায় শুধু এপিএস নন, স্বয়ং মন্ত্রী জড়িত। তাই বিষয়টি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কিংবা দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করা হোক।গত দু’দিন ধরে এই বিষয়ে দেশের সমস্ত মিডিয়াতে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। টিভির টক-শো যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আলোচকরা তাদের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা-সমালোচনা অকৃপণ হাতে ঢেলে দিচ্ছেন সেই সময়ের শ্রোতাদের। এমনি অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাজধানীতে কে বা কারা গুজব ছড়ায়, ‘রেলমন্ত্রী পদত্যাগ করছেন’। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত রেলভবনে বৃহস্পতিবার বিকেলে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলন আহবান করেন। সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের গুজব উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “পদ অর্জন করা সহজ বিষয় নয়। পদত্যাগ করার সময় হলে তখন করবো। এটা আমার জন্য কঠিন কাজ নয়”।সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বক্তব্যের শুরুতেই উদ্ভূত ঘটনাকে অনভিপ্রেত, দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করে বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনীতিক জীবন ৫৫ বছরের, আর মন্ত্রীর হওয়ার বয়স মাত্র তিন মাস। মন্ত্রী হওয়ার জন্য আমি রাজনীতি করিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে পদত্যাগ করবো। এতদিন আমি অন্যের দিকে তীর নিক্ষেপ করেছি, এখন সন্দেহের তীর আমার দিকে। তিনি অভিযোগ করেন, “আমার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র হচ্ছে”।
তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আকস্মিকভাবে ক্যামেরা দাঁড়িয়ে গেল’। এটাও অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়।
রেলমন্ত্রীর এই অভিযোগ একেবারেই উড়িয়ে দেওয়ার মত নয়। রেলের বিপুল পরিমাণ জমি বেহাত হয়েছে। নানা অভিযোগে অভিযুক্ত রেল বিভাগ। রেলওয়ের জনবলের স্বল্পতা মেটাতে সরকার প্রায় ১৩ হাজার লোক নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। ইতোমধ্যে রেলওয়ে বিভাগ সাত হাজার ১৪০ জনকে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র এক হাজার ৭৭১ জনের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। আরও দুই হাজার ৭৯০ জনকে নিয়োগ দিতে শিগগিরই নতুন করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। অবশিষ্ট নিয়োগগুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।
রেলের এই বিশাল নিয়োগ বাণিজ্যের সময়ে টাকা উদ্ধারের এই ঘটনা ঘটলো। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন, রেলমন্ত্রী যদি পদত্যাগ করেন অথবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করান তাহলে কী দাঁড়ায়? রেলমন্ত্রীর এখন পদত্যাগ করা মানে সমস্ত দায়ভার এবং দুর্নীতির অভিযোগে তিনি হবেন অভিযুক্ত। অপরদিকে, তিনি পদত্যাগ না করলে বিরোধীদল সরকারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করবে এবং দেশবাসি তাদের কথা বিশ্বাস করবে।
টাকা উদ্ধারের এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রাজনীতি কোন পথে চলবে তা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুরস্ক থেকে দেশে ফেরার পর। এরপর তিনি নিবেন সিদ্ধান্ত। তাঁর বাস্তবমুখি সিদ্ধান্ত দেখার জন্য দেশবাসি অপেক্ষা করছে।
বন্ধু সুরঞ্জিতকে পদত্যাগ করার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ। বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ বলেন, “আমার বন্ধু সুরঞ্জিত বাবু আজ ধরা পড়ে গেছেন। তিনি যতই এড়াতে চান, এই ঘটনার মূল নায়ক তিনি নিজেই। উপায় নেই, এবার আপনি কোথায় যাবেন?”
উল্লেখ্য, গত সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর জিগাতলা মোড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরের মূল ফটকের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ আটক হন মন্ত্রীর এপিএস ওমর ফারুক তালুকদার। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ওই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়।
ফারুকের সঙ্গে ওই গাড়িতে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) ইউসুফ আলী মৃধাও ছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের খবর, রেলওয়ের নিয়োগের জন্য ঘুষ হিসেবে ওই ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। ওই টাকা নিয়ে তারা মন্ত্রীর বাসায় যাচ্ছিলেন বলেই সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন ফারুক। ব্যাপক সমালোচনার মুখে বুধবার ফারুককে সাময়িক বরখাস্ত করেন সুরঞ্জিত। ওই ঘটনার তদন্তে দুটি কমিটি করে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
গত বছর ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নেন সুরঞ্জিত, অন্য মন্ত্রীদের সমালোচক হিসাবে যিনি বহুবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন আগের তিন বছরে।
আমার জন্য পদ অর্জন সাংঘাতিক কোনও বিষয় নয়, ত্যাগ করাও সহজ। যদি অবস্থান ওদিকে নিয়ে যায়, এক মুহূর্তও সময় নেব না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর রেলভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমন মন্তব্য করেন। ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ উল্লেখ করে সুরঞ্জিত বলেন, রেলের সুবিধাবঞ্চিত গ্রুপ এ কাজ করতে পারে। রেলওয়েকে দুর্নীতিমুক্ত করতে গিয়ে তিনি চক্রান্তের শিকার হচ্ছেন।তিনি বলেন, “রেলওয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য যখন আমি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি, তখন একটি দল এর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে।” রেলওয়েতে আগে থেকেই ‘দুর্নীতি’ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেনেশুনেই তিনি এই ‘বিতর্কিত’ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আজীবন তীর ছুঁড়েছি। এবার তীরবিদ্ধ হয়েছি। এবার তীরের যন্ত্রণা বুঝেছি।”
ফরুকের কাছে টাকা পাওয়ার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের যে দাবি বিরোধী দল করেছে- সে প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সুরঞ্জিত বলেন, এটা রেল মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, আদালতের বিষয়। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চাইলে এ বিষয়ে তদন্ত করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করব।”
সুরঞ্জিত আরও জানান, এপিএসের বাসা মোহাম্মদপুরে, টাকা ওদিকে যাচ্ছিল। তারপরও সত্য বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে হাইকোর্ট বা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করতে পারে।
তিনি দাবি করেন, আমি রাত ১০টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ি। আমার বাসায় রাত ১২টার মধ্যে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। তিনি আরও জানান, ওই দিনের পর এপিএস বা অন্য কারও সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়নি, তিনি তাকে ছাড়িয়েও আনেননি।
উল্লেখ্য, গত সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর জিগাতলা মোড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরের মূল ফটকের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ আটক হন মন্ত্রীর এপিএস ওমর ফারুক তালুকদার। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ওই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়।
ফারুকের সঙ্গে ওই গাড়িতে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) ইউসুফ আলী মৃধাও ছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের খবর, রেলওয়ের নিয়োগের জন্য ঘুষ হিসেবে ওই ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। ওই টাকা নিয়ে তারা মন্ত্রীর বাসায় যাচ্ছিলেন বলেই সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন ফারুক। ব্যাপক সমালোচনার মুখে বুধবার ফারুককে সাময়িক বরখাস্ত করেন সুরঞ্জিত। ওই ঘটনার তদন্তে দুটি কমিটি করে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নেন সুরঞ্জিত, অন্য মন্ত্রীদের সমালোচক হিসাবে যিনি বহুবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন আগের তিন বছরে।
সিলেটনিউজসাইট : আওয়ামী লীগ নেতা ও রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএস’র গাড়িতে অর্থ পাওয়ার ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ। তবে এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি আওয়ামী লীগ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো যাচ্ছে না বলে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন মাহাবুব-উল আলম হানিফ। সোমবার রাতে রেলমন্ত্রীর এপিএস ওমর ফারুক তালুকদারকে বহনকারী একটি গাড়ি থেকে ৭০ লাখ টাকা পাওয়ার খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকে তা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে দেশজুড়ে। রেল মন্ত্রণালয় দুটি তদন্ত কমিটি করেছে। ফারুকের সঙ্গে ওই গাড়িতে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) ইউসুফ আলী মৃধাও ছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের খবর, রেলওয়ের নিয়োগের জন্য ঘুষ হিসেবে ওই বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়েছিল।তোপের মুখে বুধবার এপিএস ওমর ফারুককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। এদিকে রেলমন্ত্রী দাবি করেছেন, তিনি চক্রান্তের শিকার।
সিলেটনিউজসাইট : পদ্মা সেতু নির্মাণে ‘যুক্তি-যুক্ত’ সময়ে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মালয়শিয়ায় সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এখন চূড়ান্ত চুক্তির প্রস্তাব মালয়শিয়া দেবে। তারা কবে নাগাদ এ প্রস্তাব দেবে তা তাদের ব্যাপার।”
এরপরও সম্ভাব্য একটি সময় জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, “এই করে করে আপনারা অনেক মন্ত্রীকে পেঁচিয়ে ফেলেছেন। সময়ের ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।” তবে আগামী ১০ মাসের মধ্যেই পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন যোগাযোগমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “অর্থায়নের বিষয়ে মালয়শিয়া কনসোর্টিয়ামের সব সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও মালয়শিয়ার জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই পদ্মা সেতুর মূল চুক্তি হবে।”
‘বিল্ট অন অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার’ পদ্ধতিতে পদ্মাসেতু নির্মাণ করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আলাপ আলোচনা করে মালয়শিয়ার সঙ্গে বিস্তারিত চুক্তি করা হবে। এখানে সুদের কোনো বিষয় নেই।” তিনি আরও বলেন, “পদ্মা সেতু নির্মাণে টাকা জোগাড় করবে মালয়শিয়া। সেতু তৈরি করার পর তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা তুলে নেবে।”
উল্লেখ্য, ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণে এর আগে বিশ্ব ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি দাতা সংস্থার সঙ্গে ঋণচুক্তি করেছিল সরকার। ওই সময় প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২৯০ কোটি ডলার। তবে প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত সেপ্টেম্বরে অর্থছাড় স্থগিত করে বিশ্ব ব্যাংক। এরপর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকও ঋণ সহায়তা বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় গত ফেব্রুয়ারিতে এ প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করে মালয়শিয়া। গত ২৫ মার্চ মালয়শিয়ার মন্ত্রিসভা পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করে।
রেলমন্ত্রীর বিষয়ে ‘নো কমেন্ট’ :
রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএসের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রশ্ন করলে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, “নো কমেন্ট”। এ নিয়ে আমি কোনও কথা বলতে চাই না।
ঢাকায় রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএস মো. ওমর ফারুক ৭০ লাখ টাকাসহ আটকের খবর গত মঙ্গলবার মোবাইল, টেলিভিশন ও অন-লাইন পত্রিকার মাধ্যমে জানার পর তার নির্বাচনী এলাকা দিরাই-শাল্লায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। বিএনপিসহ সুরঞ্জিত বিরোধীদের আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা যায়। গতকাল বিস্তারিত তথ্য জানতে মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা দিরাইয়ে পত্রিকা আসার সাথে সাথে লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়েন পত্রিকা কিনতে। এ সময় কে কার আগে পত্রিকা কিনবেন-তা নিয়েও বাক-বিতণ্ডা করতে দেখা দেয়। গতকাল পত্রিকার কপি বিশেষ করে যে সব পেপারে গুরুত্বসহকারে খবরটি ছেপেচে তা মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যায়।কে এই ওমর ফারুক : বেশ কয়েকটি সূত্রে জানা যায়, ওমর ফারুক তালুকদারের গ্রামের বাড়ী সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার মির্জাপুরে। তার বাবার নাম আহল্লাদ মিয়া তালুকদার। ছোট বেলায় ফারুকের বাবা মারা যায়। সাধারণ নিম্নবিত্ত পরিবারের হলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর সে দীর্ঘদিন বেকার থাকায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি তাকে তার এপিএসর দায়িত্ব দেন। এ থেকে তা কর্মজীবন শুরু হয়। মাত্র সাড়ে তিন বছরের কর্মজীবনে ওমর ফারুক তালুকদার বিপুল টাকার মালিক বনে যান। তার নামে বে-নামে প্রচুর পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুরে ও ধানমন্ডিতে দু’টি ফ্ল্যাট, নেত্রকোণায় একটি ছয়তলা বাড়ী ও দু’টি দামি গাড়ী।
দিরাই উপজেলা বিএনপি : দিরাই উপজেলা বিএনপি’র উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলে, ‘হৈ হৈ রৈ রৈ সুরঞ্জিতসেনের কালো বিড়াল-৭০ লাখ গেল কই, কালো বাজারী দুর্নীতিবাজদের অস্তানা দিরাই-শাল্লায় হবে না’সহ বিভিন্ন শ্লোগান দেন নেতা-কর্মীরা। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মিছিলটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কার্যালয়ে এসে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাপ মিয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুর রশিদ, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মইন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, সাধারণ সম্পাদক ফারুক সর্দার, পৌর যুবদলের সভাপতি রুবেল আহমদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সুহেল তালুকদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বাবুল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সজিব রশিদ চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলমরিয়াদ তনয়, শাহ আলম, হাসান, এস এম সায়েম, জাকির হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে শ্রেষ্ট দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী উল্লেখ করে তার পদত্যাগ ও শাস্তি দাবি করেন। আওয়ামী সরকারের উপহার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সারাদেশব্যাপী বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর মিথ্যা মামলা, হত্যা, গুম ও নির্যাতনের প্রতিবাদ জানান তারা। সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনারের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করতেও সরকারের প্রতি এ সময় আহবান জানানো হয়।
সিলেটনিউজসাইট : বিয়ানী বাজার উপজেলা বিএনপির যুবদল, ছাত্রদল, পৌর যুবদল এবং কলেজ ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল বাতিন এর দেশে আগমন উপলক্ষে ও বিয়ানী বাজার সরকারী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাকির আহমদ এর যুক্তরাষ্ট্র গমন উপলক্ষে এক বিশাল সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল মতলিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নজমুল হোসেন পুতুল ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়ছল উদ্দিনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের শামীম বলেন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে ত্বত্তাবধায়ক সরকার পুর্নবহাল করা হবে ইনশাআলাহ। এছাড়া সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেওয়ার আহবান জানান বিএনপির এ নেতা। তিনি বলেন ১০ টাকার চাউল, বিনামুল্যে সার, ঘরে ঘরে চাকুরী দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে এ সরকার সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। বিদ্যুৎ গ্যাসের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। কোথাও মানুষের নিরাপত্তা নেই। লুটপাট-সন্ত্রাসী ও চাদাবাজি নিয়ে এ সরকার ব্যস্ত তাই দেশবাসী আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। শামীম বলেন বিদ্যুৎ সেক্টরে লুটপাটের মহোৎসবের কারণে দফায় দফায় বিদ্যুতের মুল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। চাউল-তেল ইত্যাদি নৃত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। সরকার এই ব্যর্থতা ঢাকার জন্যই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে। খালেদা জিয়ার তিন মাসের আল্টিমেটাম উল্লেখ করে আবুল কাহের শামীম বলেন এর মধ্যে যদি তত্তাবধায়ক সরকারের ইস্যু সমাদান না হয় তাহলে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের মাঠে নামার জন্য আমরা প্রস্তুত। সংবর্ধনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান। সংবর্ধনা সভায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিদ্দিক আহমদ, খসরুজ্জামান, আতাউর রহমান, আবু তাহের, কামাল হোসেন, আব্দুল কুদ্দুছ, শাহাবুদ্দিন, নাজিমুদ্দিন, আব্দুল মন্নান, তমছির আলী, হাজী জসিম উদ্দিন, আতিকুর রহমান, জব্বার হোসেন, হোসেন আহমদ দৌলা, দৌলা হোসেন সুবাস, জুবের আহমদ, আব্দুল হালিম, আফজল হোসেন, মাহবুবুর রহমান, মিছবাহ উদ্দিন, ছাদিক মোহাম্মদ মামুন, এবাদুর রহমান চৌধুরী, সাহেদ আহমদ, আব্দুল কাদির, আব্দুল মাজেদ দিপু, জামিল হোসেন, রেদওয়ান আহমদ প্রমুখ।-বিজ্ঞপ্তি
বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল কাহের শামীম বলেন, আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনীতি করি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে এই সংগ্রামে সহযোগীতা করতে হবে।দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করে যুব সমাজের কাছে দেশের নেতৃত্ব তুলে দিতে । যুব সমাজ নেতৃত্ব দিলে দেশ ভাল থাকবে। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারলে সরে দাঁড়ান। দলীয় সরকারের অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।জাতীয় নির্বাচন অতীতেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে ইনশাআল্লাহ্। আওয়ামী লীগকে সেই নির্বাচনে আসতেই হবে।
দেশের মানুষ ভালো নেই।লুটেরা সরকার সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের আজ নাভিশ্বাস উঠেছে। ভালো আছে শুধু সরকারের মন্ত্রী, এমপি আর দলীয় নেতারা। আওয়ামীলীগ ঘোষ,দুর্নীতির বস্তা ভর্তি টাকা দিয়ে এখন চার বেলা করে ভাত খায়।‘এ সরকারের পা থেকে মাথা পর্যন্ত দুর্নীতিতে ডুবে আছ। আবুল কাহের শামীম সরকারের কর্মকান্ডের সমালোচনা করে বিরোধী দল দমন নীতি বন্ধ করে দেশের ও মানুষের কল্যানে কাজ করার আহবান জানান। অণ্যথায় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের পতন ঘটাতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আম্বরখানাস্থ দলীয় কার্যালয়ে নবগঠিত সিলেট জেলা ও মহানগর জিয়া ব্রিগেটের মতবিনিময় সভায় নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে উপরোক্ত কথা বলেন। জিয়া ব্রিগেট সিলেট জেলা শাখার আহবায়ক……………………………………………………………সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় অনুষ্টিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপি নেতা ……………………। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন…………………………………………………………………
সিলেটনিউজসাইট : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশিষ্ট শিাবিদ বরকত হোসেন বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে যারা তথ্য ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে তারাই নেতৃত্বের দিক থেকে এগিয়ে। মেধা, তথ্য ও প্রযুক্তির জ্ঞান ছাড়া এ বিশ্বে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই, মেধার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনের নেতৃত্ব।
তিনি গতকাল ইসলামী ছাত্রশিবির, সিলেট বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘লীডারশিপ কনফারেন্স অন ক্যারিয়ার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সিলেট মহানগর সভাপতি মাহমুদুর রহমান দিলওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিা সম্পাদক মু. শাহীনুর রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক আতাউর রহমান বাচ্চু। উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবি’র সদ্য সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য আ.জ.ম. মুজাহিদ র“মী, শাবিপ্রবি সভাপতি হোসাইন আহমদ, মৌলভীবাজার শহর সভাপতি আজিম উদ্দিন, সিলেট জেলা পূর্ব সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি দেলাওয়ার হোসাইন, মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি হাফেজ তাজুল ইসলাম, হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম, মহানগর সেক্রেটারী আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপু ও সিলেট জেলা পশ্চিম সেক্রেটারী দুলাল আহমদ।
৪ দফা দাবী আদায়ের লক্ষে সড়কের বাজার আহমদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছাত্র সমাবেশ
গত ১২ ফেব্রুয়ারী কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী কর্তৃক সড়কের বাজার মাদরাসার প্রিন্সিপাল সহ ২৯ জন ছাত্রকে আসামী করে কানাইঘাট থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে প্রতিষ্ঠানটি শিার্থী শূণ্য হয়ে পড়ে। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৮০০-৯০০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করতো, সেখানে আজ উপস্থিতি নেই বলেই চলে। শিক্ষকরাও আতংক আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।গত ২ এপ্রিল শিার্থীদের প থেকে সিলেট প্রেসকাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ৪ দফা দাবী আদায়ের লক্ষে ৯ দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিদিন নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করা হচ্ছে। যা প্রতিদিন স্থানীয় সকল সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন কেন তা কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে না?
গতকাল সোমবার সড়কের বাজার মাদরাসার ছাত্র সংসদের উদ্যোগে এক বিশাল ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র সংসদের সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী ফয়সল আহমদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, ছাত্র সংসদের সাবেক সভাপতি ওলীউর রহমান ও কামাল উদ্দিন, সহ-সেক্রেটারী মুহিউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান খান। তারা বলেন, ছাত্রদের পক্ষ থেকে এলাকায় যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ। ছাত্রদের অনুরোধে প্রিন্সিপাল কর্মস্থলে যোগ দিতে চান, কিন্তু তাকে প্রতিনিয়ত আশিক চৌধুরীর লোকেরা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে এবং বলছে মাদ্রাসায় যোগদান করলে লাশ হয়ে ফিরতে হবে। এই মাসেই অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো প্রথম সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু আদৌ হবে কিনা, তা নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন। সুতরাং এই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী সহ সংশিষ্ট কর্তৃপকে দ্রুত সমস্যা সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান বক্তারা।
জকিগঞ্জে রোটারেক্ট-এর সহযোগিতায় ফ্রি খৎনা সম্পন্ন
রোটারিয়ান ডা: ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, চিকিৎসা সেবা একটি মহৎ কাজ। চিকিৎসকদের মানব সেবায় আত্মনিয়োগের মাধ্যমে সমাজের বৃহৎ কল্যাণ সাধন সম্ভব। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে চিকিৎসকদের মানব সেবায় দৃষ্টাš— স্থাপন করতে হবে।
গত ৬ এপ্রিল জকিগঞ্জের বারঠাকুরি ইউনিয়ন পরিষদ অডিটোরিয়ামে বারঠাকুরি সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ফ্রি খৎনা ক্যাম্প উপলে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। রোটারেক্ট কাব অব সিলেট (ঝড়সপ) এর সহযোগিতায় আয়োজিত ফ্রি খৎনা ক্যাম্প অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডা: নাহিদ (পিপি), ডা: জাহাঙ্গীর (পিভিপি), ডা: জয়নুল, ডা: সাইফুল আলম (জেপিপি), ডা: নুর“ল , সালাউদ্দিন কাদের, ইলিয়াস মাহমুদ, আরেফীন, জাহাঙ্গীর, কামর“জ্জামান ও মাহমুদ।
সিলেটনিউজসাইটঃ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ ফ্যাসিবাদ আওয়ামী সরকার থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। সর্বক্ষেত্রে অপারগ আওয়ামী সরকারের মিথ্যাচার ও অযুক্তিক কর্মকান্ডে জনগন দিশেহারা। তাই জাতীয়তাবাদী আদর্শের শক্তিকে একত্রি হয়ে বর্তমান মিথ্যাচার সরকারের বিরোদ্ধে আন্দোলনের গনজোয়ার গড়ে তুলতে হবে। গত শনিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড শাখার কমিটি গঠন উপলে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এ কথা গুলো বলেন। সমাবেশে পূর্ব ইসলাম পুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের আহবায়ক মোঃ জসিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ জালাল আহমেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক দলের আহবায়ক লাল মিয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মাসুক আহমদ হৃদয়, যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আলঙ্গির আলম মেম্বার, শ্রমিক দলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ রমজান আলী। সভায় নব গঠিত কমিটিতে কামাল মিয়াকে সভাপতি, আব্দুর রহিমকে সাধারণ সম্পাদক ও মোঃ লিল মিয়াকে সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনিত করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য কার্যকরী সদস্যরা সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ কামাল মিয়া, সহ সভাপতি কাওছার আহমদ, সহ সভাপতি ফজর আহমদ, সহ সভাপতি রমজান মিয়া, সহ সভাপতি আলম খা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হুসাইন আহমদ, রবিউজ্জামান, প্রচার সম্পাদক বেদ আহমদ, সহ প্রচার সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক নেছার আহমদ, সহ দপ্তর সম্পাদক বাবুল মিয়া, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আনিছ মিয়া, সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মিজান মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সহ ক্রীড়া সম্পাদক মানিক মিয়া, সমাজ সেবা সম্পাদক শাহ আলম, সহ সমাজ সেবা সম্পাদক মানিক মিয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কয়েছ মিয়া, সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আহাদ, আপ্যায়ন সম্পাদক আবুল মান্নান। কার্যকরী সদস্যরা মাসুক মিয়া, জামাল মিয়া, রফিকুল ইসলাম, শাহিন, বিলাল মিয়া, কমর আলী, ইকবাল আহমদ।-বিজ্ঞপ্তি
সিলেটনিউজসাইট : পঞ্চম আদমশুমারির গণনা থেকে দেশের ৫৭ লাখ মানুষ বাদ পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)। শুমারির গণনা পরবর্তী যাচাই জরিপে (পিএসসি) ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ মানুষ বাদ পড়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। এই ভুল সংশোধন করে আগামী জুন মাসের মধ্যে জনসংখ্যার চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। পিএসসির ফলাফল অনুযায়ী বাদ পড়া সংখ্যা অন্তর্ভুক্তির পর বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৪ কোটি ৮০ লাখ ১৯ হাজার। সোমবার ঢাকায় বিআইডিএস মিলনায়তনে বিআইডিএস ও বিবিএস আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।গত বছর জুলাইয়ে আদমশুমারির প্রাথমিক ফলাফলে বলা হয়েছিল, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৪ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজার। আর পিএসসির ফলাফল অনুযায়ী এই সাথে আরো ৫৭ লাখ যোগ হলে বর্তমানে মোট জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ কোটি ৮০ লাখ ১৯ হাজার।তবে চূড়ান্ত ফলাফলে মোট জনসংখ্যা এর চেয়েও বেশি হবে বলে বিবিএস মহাপরিচালক মো. শাহজাহান আলী মোল্লা জানিয়েছেন। আদমশুমারির তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তাদের মূল্যায়নে শুমারিতে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ মানুষ কম গণনা হয়েছে। গণনার প্রাথমিক ফলের সঙ্গে এই পরিমাণ যোগ করলে জনসংখ্যা বেড়ে যাবে আরো ৫৭ লাখ।’তবে এ ভুল স্বাভাবিক মন-ব্য করে তিনি বলেন, উন্নত দেশেও এ ধরনের ভুল হয়ে থাকে।তিনি জানান, এবারের ভুল ২০০১ সালের আদমশুমারির তুলনায় কম। সেবার ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ মানুষ গণনা থেকে বাদ পড়েছিল।বিবিএস মহাপরিচালক মো. শাজাহান আলী মোল্লা বলেন, গণনার হিসাব শেষ পর্যায়ে। এখন সম্পাদনা চলছে। পিএসসির এই ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ যোগ করে আগামী জুনের মধ্যে চূড়ান- ফল ঘোষণা করা হবে।গত বছর ১৫ থেকে ১৯ মার্চ সারা দেশে পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহ গণনা হয়। পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মীরা ওই সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর তা বিআইডিএসকে যাচাই করার জন্য দেয়া হয়।১০ থেকে ১৪ এপ্রিল বিআইডিএসের কর্মীরা বাছাই করা ২৮০টি এলাকার ৩৩ হাজার ৬০০ বাড়িতে গিয়ে আদমশুমারি থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করেন।
২৮০টি এলাকার মধ্যে ১৪০টি পল্লী এলাকা, ২০টি উপজেলা সদরে, ৬০টি পৌরসভায় এবং ৬০টি সিটি করপোরেশন এলাকায়। এর মধ্যে পৌরসভা এলাকায় ভুলের হার সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।
গত বছর ১৬ জুলাই ঘোষিত প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখন ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ, যা ১০ বছর আগের চেয়ে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ কম। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৯৬৪ জন।
সংবাদ সম্মেলনে বিআইডিএস ও বিবিএস-এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটনিউজসাইট : মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু মিয়া ভারতে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছে র্যাব।গতকাল সোমবার র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম সোহায়েল এ তথ্য জানান।অন্যদিকে, আবুল কালাম আজাদের দুই ছেলে ও শ্যালক জানিয়েছেন, তিনি দিনাজপুরের হিলি হয়ে ভারতে চলে গেছেন। র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম সোহায়েল আরও জানান, তার গন্তব্য পাকিস্তান। আবুল কালাম আজাদের দুই ছেলে ও শ্যালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গত মঙ্গলবার ‘আবুল কালাম আজাদের’ বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেদিন তার উত্তরার কার্যালয় বা উত্তর খানের বাড়িতে অভিযান চালিয়েও পুলিশ তাকে পায়নি।জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে আজাদের বিরুদ্ধে। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মুজাহিদও আটক রয়েছেন।
হোসেন আহমেদ চৌধূরী,ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি : ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানায় ইউরিয়া কম্প্রেসার বাল্ব খুলতে গিয়ে এমোনিয়া গ্যাস লিক করে রোববার সকালে ৫ কর্মচারী আহত হয়েছে। এরা হলেন- তহিদ উল্লাহ, আকমল আলী, হারিছ চৌধুরী, খায়ের আহমদ ও মনা প্রসাদ রায়। ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী রসময় চক্রবর্তী ও সিবিএ সভাপতি ছালেহ আহমদ জানান, আহতদের তাৎনিকভাবে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশংকাজনক। জানা গেছে, ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানার এমোনিয়া সেকশনে নিরাপত্তার গ্লাস না থাকাতে বার বার দুর্ঘটনা ঘটছে। গত কিছুদিন পূর্বে একই সেকশনে এরকম দুর্ঘটনায় আব্দুল আহাদ নামের এক কর্মচারী মারাত্মক আহত হন। পরে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় ঢাকার বারডেম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
মোঃ আলী হাছান শামীম
মাটি হতে জন্ম জীবনের
মাটিতেই বিচরণ,
মাটির বুকে হেসে খেলে জীবন
মাটিতেই মরণ ।
মাটির ঘরে ঘুমিয়ে জীবন
মাটি হতে ঘটবে জাগরণ,
জন্ম মৃত্যুর এ সংযোগ মিলনে
অনন্ত জীবন ।
কিন্ত জীবন ভাবেনা অনন্ত
ভাবে জীবন ক্ষণিক তোড়া,
জন্মের সাথে মৃত্যুকে জীবন
চায়না দিতে জোড়া ।
কিন্তু জীবন মৃত্যু যোগে
হচ্ছে অনন্ত হরদম,
জন্ম মৃত্যুর পালা বদলে
জীবন করছে অনন্তে গমন।
তাইতো জীবন হও প্রস্তুত
জীবনের প্রতি বাকে,
অনন্ত জীবনে করতে বসবাস
সামান লও আগে ।
বিশেষ মুহূর্তে শুধু শুভ কামনা নয়
শুভ কামনা জীবনের প্রতিটি ক্ষণে ,
সুখ শান্তি হোক চিরস্থায়ী
অনন্ত জীবন সনে।।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি আজ তুরস্কের ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। সোমবার সকাল পৌনে আটটায় তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওয়ানা হন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনংযোগ কর্মকর্তা (জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম কবীরএ তথ্য জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর তুরস্ক সফরের অগ্রবর্তীদলের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেদেশে যাচ্ছেন। তুরস্ক সফর শেষে ১৫ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী লন্ডন যাবেন। সেখানে কমনওয়েলথ মিনিস্ট্রিয়াল অ্যাকশন গ্রুপের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি অংশ নেবেন। ১৭ এপ্রিল এ সম্মেলন হবে। ১৯ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
সিলেটনিউজসাইট : সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন করতে না পারার কারণ জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আজ বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের এই ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ডাকসু নির্বাচন করতে ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, নিবন্ধক ও প্রক্টরকে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছে আদালত। প্রায় দুই যুগ ধরে অচল ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে গত ২১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করেন। এডভোকেট মনজিল মোরশেদ আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিধান অনুযায়ী প্রতিবছর ডাকসুতে নির্বাচন হওয়ার কথা। এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সত্যিকার নাগরিক হিসেবে তৈরি করা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্ব সৃষ্টি করা। পাশাপাশি পাঠ্যক্রমিক ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের সর্বোচ্চ সুবিধা প্রাপ্তির জন্য এই নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আদান প্রদান জোরদার করতে পারে বলে আবেদনে বলা হয়। কিন্তু নির্বাচন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে বলে রিটে দাবি করে ডাকসু নিবার্চনে প্রয়োজনীয় নিদের্শনা প্রার্থনা করা হয়। ১৯৯০ সালের ৬ জুলাই ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন অনষ্ঠিত হয়।
সিলেটনিউজসাইট : সিলেট-জাফলং রোডে খাদিম বিসিকের নাজিমগড় সংলগ্ন রাস্তায় লেগুনার ধাক্কায় মটর সাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।আহত ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গির আলম (২৮)।তিনি স্থানীয় কল্লগ্রাম নিবাসী মুহিব আলীর ছেলে।গুরুতর আহত জাহাঙ্গিরকে চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে মোটর সাইকেল যোগে জাহাঙ্গির সিলেট যাওয়ার পথে, বটেশ্বর থেকে আসা সিলেটগামী লেগুনা মোটর সাইকেলকে অভারটেক করার সময় ধাক্কা দেয়। এসময় জাহাঙ্গির মোটর সাইকেল থেকে পড়ে যান। পরে গুরুতর আহত জাহাঙ্গিরকে স্থানীয় জনতা মেডিক্যালে পাঠান।দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। খাদিমপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও শাহপরান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সান্ত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লেগুনাসহ ড্রাইভারকে আটক করেছে।
স্পোর্টস রিপোর্টার : কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) খেলতে রোববার বিকালে ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন সাকিব আল হাসান। যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আইপিএল ও ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা খুব কাজে লেগেছে। সেখানে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় দলের সবার সঙ্গে আমি আলোচনাও করেছি। ওদের সঙ্গে অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছি।’অন্যদিকে এবার তার আইপিএল’র লক্ষ্য কি হবে তা বলতে গিয়ে বলেন ‘আইপিএল-এ গত আসরে বল হাতে ভাল করলেও ব্যাট হাতে তেমন ভাল করিনি। এবার ব্যাটিংয়েও ভাল করতে চাই। আমি এবার ভাল করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। আমার লক্ষ্য যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলা।’ গত বছর আইপিএল ও ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাজে লেগেছে বলে মনে করেন সাকিব। গতবার নাইট রাইডার্সের হয়ে বল হাতে সাফল্য পেলেও ব্যাটসম্যান হিসেবে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। এবার ব্যাট হাতেও সফল হতে চান টেস্ট-ওয়ানডে দু’টোরই অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা সাকিব আল হাসান। অন্যদিকে আজ সকালে ভারতের উদ্দেশে রওনা হবেন তামিম ইকবাল। তিনি পুনে ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলবেন।
সংবাদদাতা,সাতক্ষীরা : স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত নাট্যানুষ্ঠানে মহানবী হযরত মোহাম্মাদ (স.) সর্ম্পকে কটূক্তি করার প্রতিবাদে রোববার সাতক্ষীরা কোর্ট চত্বরে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে স্থানীয় মুসল্লিরা।গতকাল সকাল ১০টায় জেলা শহরের বিভিন্ন মসজিদের ঈমামরা মিছিল সহকারে সাতক্ষীরা জজ র্কোর্ট চত্ত্বরে আসে। পরে ইমাম সমিতির ব্যানারে সেখানে একটি মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।মানববন্ধনে বক্তরা মহানবী হযরত মোহাম্মাদ (স.) সর্ম্পকে কটূক্তি করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা অবিলম্বে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানান।পরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান খান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।স্মারকলিপি গ্রহণকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাষক ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, আমরা দোষীদের কয়েকজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছি। অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। নৈরাজ্য সৃষ্টি না করার জন্য তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। পুলিশের উপস্থিতিতে কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি ভাংচুর করা হচ্ছে সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, সকলের উচিৎ শান্ত থাকা। প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স ডেস্ক : মায়ানমারের উপ-নির্বাচনে একটি আসনে ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সাধারণ সম্পাদক অং সান সুকি বিজয়ী হয়েছেন। এনএলডির এক বিবৃতিতে এ সংবাদ জানানো হয়। এনএলডি জানিয়েছে, কাউমোর নির্বাচনে বেসরকারিভাবে সুকি বিজয়ী হয়েছেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।কাউমোর নির্বাচনে অং সান সুকির অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের পর এনএলডি এই প্রথম কোনো সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলো। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, উপ-নির্বাচন মায়ানমারের সামরিক জান্তা প্রস্তাবিত রাজনৈতিক সংস্কারের একটি এসিড টেস্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনের বিশেষত্ব হচ্ছে- নির্বাচনে বিদেশী সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের আধিক্য রয়েছে। নির্বাচন প্রসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর পর্যবেক্ষক আইভো বেলেট জানান, আমি আশা করছি দিনভর মায়ানমারে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হবে। এদিকে এনএলডির এক মুখপাত্র এএফপিকে জানান, তিনি ইতোমধ্যেই ব্যালট পেপার এর অবৈধ ব্যবহারের ব্যাপারে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন। তথ্য: বিবিসি
সংবাদদাতা : সাতক্ষীরার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ প্রগতিশীল আন্দোলনের অন্যতম পুরুষ, মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ৫ বছর পর তাঁর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে থানা পুলিশ। ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬০ ধারা মতে সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই মোঃ শরীফ নিয়াজী নোটিশটি দেন।মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত ২৯ মার্চ এ নোটিশ জারি করা হয়। আজ সোমবার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার কাটিয়ার মৃত আব্দুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমানকে সদর থানায় এস আই শরীফ মিয়াজীর কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। নোটিশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।জেলা সদরের বিনেরপোতা গ্রামের মৃত কেরামত আলী সরদারের ছেলে আকবার আলীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে এস আই শরীফ মিয়াজী ওই নোটিশ জারি করেন। নোটিশ জারীর বিষয়ে এসআই শরীফ মিয়াজীর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
সিলেটনিউজসাইট : যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিআরটিএ’র মিরপুর অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সতর্ক করে বলেছেন, সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। তিনি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শেষবারের মত সতর্ক করে বলেন, পরবর্তীতে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন সেবাগ্রহীতা কর্তৃক অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক অবমুক্তিসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। যোগাযোগমন্ত্রী আজ রোববার আকস্মিকভাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ’র মিরপুর অফিস পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন। আকস্মিক পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেট, গাড়ির ট্যাক্সের টাকা জমা দেয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেবা গ্রহীতাদের সাথে কথা বলেন। এ সময় অনেকেই বিআরটিএ-র বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর কয়েকবার আকস্মিক পরিদর্শন ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের ফলো-আপের কারণে সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান। আবার কেউ কেউ সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অহেতুক দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগও করেন। এ সময় মন্ত্রী অভিযোগকারীদের সাথে কথা বলেন এবং তাৎক্ষণিক কর্মকর্তাদের ডেকে এক কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগসমূহ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজসহ চতুর্থবারের মত বিআরটিএ-র মিরপুর অফিস পরিদর্শন করেন।
সিলেটনিউজসাইট : সরকার গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক এমপি। তিনি বলেন, কোনো সরকারের সময় যদি ফুরিয়ে যায় তাহলে তারা গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ শুরু করে। আর এই সরকার তাই শুরু করেছে।আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়া-তারেক রহমান মুক্তি পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বলেন, আপনারাই বিদেশ থেকে টাকা নিয়ে এসেছেন। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে ফারুক আরও বলেন, যারা এদেশে বাকশাল কায়েম করেছে, তারা গণমাধ্যমকে গলাচিপে হত্যা করছে। তাদের হাতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া যাবে না। মুক্তি পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রতনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, বিএনপির চট্টগ্রাম সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার ও মুক্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান প্রমুখ।
সিলেটনিউজসাইট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সকলের বিশেষ করে দরিদ্র ও নাজুক দেশগুলোর জন্য নিরপেক্ষতা ও সমতা নিশ্চিত করতে আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সরকারি কার্যালয়ে সফররত ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক প্যাসকল ল্যামির সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। ল্যামির সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। শেখ হাসিনা এ সময় উল্লেখ করেন যে, উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে তাদের কর্তব্য এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে অর্থবহ বাজার প্রবেশাধিকার বিষয়ে তাদের তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে কোটা ফ্রি’র অঙ্গীকার পূরণ করা। এর জবাবে ল্যামি বলেন, তার সংস্থা বাংলাদেশে তাদের চলমান সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।ডব্লিউটিও’র প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১-এর কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে ব্যক্তি বিশেষের বিরাগভাজন হওয়া সংবাদপত্র সংশ্লিষ্টদের এক অমোঘ নিয়তি। এর থেকে পরিত্রাণ নেই। মুক্তি নেই। এ এক নিরন্তর যুদ্ধ। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা তাদের নিজস্ব প্রচার-প্রোপাগান্ডার জন্য প্রায়শই সংবাদপত্রের দারস্থ হন। অনুল্লেখযোগ্য ব্যক্তি থেকে ‘মহীরুহে পরিণত হওয়ার প্রাণন্তকর প্রচেষ্টা’ থেকে তাদের ছবি, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচারের নিত্যদিনের ‘আবদার’ আমরা পূরণ করি। সাহায্য করি, সহযোগিতা করি। ‘নেতারা’ যখন গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করতে যেয়ে নিগৃত হন, দিলদার হোসেন সেলিম, এডভোকেট আবদুল গফ্ফারদের মতো ব্যক্তিদের যখন পুলিশ ‘কাণকা’র মধ্যে ধরে নিতান্তই তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের সাথে কোমড়ে দড়ি বেঁধে লাঞ্ছিত করেÑ সংবাদপত্র তখন তাদের রক্ষা করতে কলমের অনল বর্ষণ করে। কিন্তু হায়রে রাজনীতি! হায়রে ক্লিনড ইমেজের নেতৃবৃন্দ। আস্তিনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সাপটাকে আর বুঝি লোকানো গেলো না। ব্যক্তি বিশেষের প্রতি আপনাদের ক্ষোভ থাকতেই পারে। বিবৃতি বক্তৃতা আপনারা দিতেই পারেন। কিন্তু যে সংবাদটি সকল জাতীয় এবং স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলো, একই সংবাদ প্রকাশের দায়ে আপনাদের বিচারের শ্যামল সিলেট অভিযুক্ত হয়ে গেলো।
২২ মার্চ নগরীর শাহজালাল উপশহরে শওকত নামের এক যুবককে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি অপরাধী নাকি বিএনপি নেতাদের মতো ‘ক্লিনড ইমেজে’র অধিকারী ছিলো সেটি আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। বিষয়টি হলো হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দিতে ‘মান্যগণ্য ব্যক্তিরা’ যখন এগিয়ে আসেন তখনই শঙ্কিত হয় মানুষ। অপরাধীর বিচার আইনের আওতায় হবে। প্রকৃত দোষীরা শাস্তি পাবে, এটাই আইনের শাসন। কিন্তু নিতান্তই রাজনৈতিক কারনে দূর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিলে ‘বিধাতা তো অলক্ষ্যেই বসে হাসবেন’। এটাই বিধির বিধান। এটাই নিয়তি।
বিগত ১২টি বছর দৈনিক শ্যামল সিলেট প্রতিকূল অবস্থার সাথে যুদ্ধ করেই টিকে আছে। জীবনের সোনালী সময় মানুষ যখন কল্পনার ফানুস ওড়ায়, নৈসর্গিক শোভা দেখে বিমুগ্ধ হয়, স্বপ্ন নিয়ে বিচরণ করে বেঁচে থাকতে চায় আমরা তখন সংবাদপত্র প্রকাশনার অথৈ সাগরে ঝাঁপ দিয়েছি। শিল্পপতি নই, ‘টাকার বটবৃক্ষ’ নিয়ে আমরা এই মহাসমরে নামিনি। ইস্পাত কঠিন সংকল্প আর দানবের সাথে যুদ্ধ করার ব্রত নিয়েই আমাদের এগিয়ে চলা। শ্যামল সিলেট-এর কন্ঠ রোধ করার জন্য ‘মামলা’, ‘রাজনৈতিক প্রেশার’ আরোপ করার প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার প্রতি চপেটাঘাত ছাড়া আর কিছুই নয়।
মঙ্গলময় প্রভূ সকলের প্রতি তার কল্যাণের হাত প্রসারিত করুন।
সিলেটনিউজসাইট : দৈনিক সিলেটের ডাক’র ব্যবস্থাপনা সম্পাদক দেওয়ান তৌফিক মজিদ লায়েক বলেছেন, জাতিকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে প্রতিটি মানুষকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। সুশিক্ষা ছাড়া মানুষকে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতন করে তোলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথমে নিজেদের ঘর থেকে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। প্রত্যেক ঘরে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হলে তার সুফল রাষ্ট্র পর্যন্ত পৌছুবে। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল সিলেট মহানগর শাখার নবগঠিত কমিটির পরিচিতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর সোবহানীঘাটস্থ নাহার কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাশুকুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে কাউন্সিলর আসমা বেগম, ফটো সাংবাদিক আব্দুল বাতেন ফয়সল ও তৌফিক বক্ত লিপন উপস্থিত ছিলেন। শাখার সভাপতি সামছুজ্জামান কবিরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছয়েফ খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শামীম কবির, ফখরুল ইসলাম, লিয়াকত আলী, গুলজার আহমদ জগলু, এমদাদ হোসেন, ফয়জুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম সোয়েব, দেলোয়ার খান, মোঃ লিটন, সৈয়দ রুহুল আলম (হাসান), সানিয়াতুর রহমান চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন, শামীম আহমদ, উসমান আলী, নুরুল হক (লাল) প্রমুখ। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মোঃ ফয়জুর রহমান।
সিলেটনিউজসাইট : সিলেটের বহুতল অভিজাত বিপণীবিতান সিটি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামসুল হক সরদার শাহিনের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে এম এ জি ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের দু’জন চিকিৎসক ডাঃ শামসুল ইসলাম ও ডাঃ আব্দুল হাই মিনার ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন। আজ শনিবার ময়না তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার কথা রয়েছে। নিহত ব্যবসায়ী শাহীনের জানাজা আজ শনিবার বাদ জোহর জালালাবাদ আবাসিক এলাকার মোহাম্মদনগর জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার মরদেহ দরগাহে হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হবে। জানা গেছে, ব্যবসায়ী শাহীনের ময়না তদন্ত গতকাল দুপুরে ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ডাঃ শামসুল ইসলাম ও ডাঃ আব্দুল হাই মিনার সম্পন্ন করেন। ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ ওসমানী হাসপাতাল হিমাগারে রাখা হয়। আজ শনিবার সকালে লাশ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করবে পুলিশ। পরে জালালাবাদস্থ বাসায় লাশ নিয়ে যাওয়া হবে। সহোদরের মর্মান্তিক এ মৃত্যুর খবর পেয়ে নিহতের ছোট ভাই এনামুল হক সর্দার খোকন ইংল্যান্ড থেকে গতকাল বিকেলেই সিলেটে এসে পৌঁছেছেন। ওসমানী হাসপাতালের একটি সূত্র বলেছে, ব্যবসায়ী শামসুল হক সরদার শাহীনের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন আজ শনিবার দেয়া হবে। শাহীনের মৃত্যুর রহস্য ও তিনি খুন হয়েছেন না আত্মহত্যা করেছেন ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে সেটি পরিস্কার হয়ে যাবে। তবে তারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে এটি আত্মহত্যা। এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ সূত্র জানায়, নিহতের পিতা সিরাজুল ইসলাম সরদার বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে এয়ারপোর্ট থানায় অপমৃত্যু মামলা করেছেন। মামলা নং ১। একই দিন রাতে নিহতের পিতা এয়ারপোর্ট থানায় একটি আবেদন করেন। আবেদনে তিনি তার পুত্রের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ের জন্যে ময়না তদন্ত করার আবেদন করেন। এরপর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ সূত্র এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করা হলে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। পুলিশ সূত্র জানায়, এয়ারপোর্ট থানার এস আই মাইন উদ্দিন নিহতের লাশের সুরতহাল করেন। তিনি জানান, নিহতের কপালের বাম পার্শ্ব তেতলে গেছে। তেতলে গেছে নাকের বাম পার্শ্বও। ২ হাতের ২ কনুইতে ২টি করে ৪টি ছিদ্র রয়েছে। গলায় রয়েছে হাফ ইঞ্জি পরিমাণের কালো দাগ। এস আই মাইন উদ্দিন সুরতহালের এই তথ্য উল্লেখ করে বলেন, নিহত শামসুল হক সরদার শাহিনের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে তিনি আত্মহত্যা করেছেন না তাকে হত্যা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকার (বাসা নং৩৫/৫) নিজ বাসভবনের ৩য় তলার নিজ কক্ষের জানালার গ্রিল থেকে গলায় প্যান্টের বেল্ট দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় বিপণীবিতান সিটি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামসুল হক সরদার শাহিনের লাশ উদ্ধার করে বিমান বন্দর থানা পুলিশ।
পিবিসি২৪ : আগামী ১০ জুনের মধ্যে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি যোগ করা না হলে লাগাতার আন্দোলনের হুমকি দিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন,
স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন। এই বিপন্ন স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারকে ৯০ দিন সময় দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে না নিলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।
আজ বুধবার বিকেলে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দলের আনন্দ শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে বিজয়নগর ও মালিবাগ হয়ে মগবাজারে গিয়ে শেষ হয়।
সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, প্রতিবেশী দেশ কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আমাদের সীমান্তশৃঙ্খলিত করে রেখেছে। সীমান্তে প্রতিদিন নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে। তারপরও সরকার ওই দেশটিকে করিডোরসহ বন্দর সুবিধা দিচ্ছে। বিনিময়ে আমরা কিছুই পাচ্ছি না।
বক্তব্যের শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সমরনায়ক জিয়াউর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান ফখরুল।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের শোভাযাত্রায় জনসমুদ্র প্রমাণ করেছে, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল, স্বাধীনতার ঘোষকের দল।
“আমাদের স্বাধীনতা দিবসের শপথ হোক- সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা করব।
শোভাযাত্রায় বাদক দলের সঙ্গে ছিল ঘোড়ার গাড়িও। নেতা-কর্মীদের হাতে ছিল নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা। অনেকের হাতে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতিও ছিল।
এদিকে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা তার বক্তব্যে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। এর মধ্য দিয়ে জাতি স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
তিনি দলের নেতা-কর্মীদের শোভাযাত্রার পথে পথে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানান।
শোভাযাত্রার নেতৃত্বে ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, সাদেক হোসেন খোকা, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আহমেদ আজম খান, আবদুল হালিম, আমান উল্লাহ আমান, ফজলুল হক মিলন, ইলিয়াস আলী, আবদুস সালাম, নাজিম উদ্দিন আলম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এমপি ও আবুল খায়ের ভুঁইয়া প্রমুখ।










